
সম্প্রীতি প্রতিবেদক
চলতি আগস্টে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও, তা পিছিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নিরাপত্তার পুরো বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা) থেকে যথাযথ অনুমতি পেলেই পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি ‘চেইন রিয়েকশনের’ দিকে ধাবিত হবে।
সূত্র জানিয়েছে, পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং ও আনুষঙ্গিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর কেন্দ্রটি এখন ‘ক্রিটিক্যালিটি’ (স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া) পর্যায়ে যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এজন্য বায়রার অনুমোদনের অপেক্ষা করা হচ্ছে। নিরাপত্তার পুরো বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বায়রা থেকে যথাযথ অনুমতি পেতে হবে। এরইপরই দেশের প্রথম এ পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি চেইন রিয়েকশনের দিকে ধাবিত হবে। তবে চেইন রিয়েকশন শুরু হলেও প্রথমেই বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে- এমন নয়। এখানেও বেশ কয়েকটি ধাপের মধ্যে দিয়ে এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মধ্যদিয়ে যেতে হবে। ফলে নির্দিষ্ট পরিমান বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে তা জাতীয় গ্রিডে পাওয়ার জন্য আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।
এদিকে গত ২৪ জুলাই বিকেলে বায়রা-এর উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল রূপপুর প্রকল্প পরির্দন করতে আসে। বিদ্যুৎ প্রকল্পের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর বিদ্যুতকেন্দ্রটি ‘ক্রিটিক্যালিটি’ পর্যায়ে প্রবেশ করবে। ‘ক্রিটিক্যালিটি’ হলো পারমাণবিক চুল্লির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতার এমন একটি অবস্থা, যেখানে নিউক্লিয়ার ফুয়েল নিজের ভেতরের ফিশন শৃঙ্খল বিক্রিয়াকে (ফিশন চেইন রিঅ্যাকশন) স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে টিকিয়ে রাখতে পারে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমবার চুল্লিকে সংকটাবস্থা বা ‘ক্রিটিক্যাল’ করার তারিখটি পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র কমিশনিংয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
এ বিষয়ে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান বলেন, ‘জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন করার পর বেশ কিছু পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আমরা সফলভাবে সব প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন করেছি। এখন আমরা পরবর্তী ধাপে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত।’
নিয়ন্ত্রক সংস্থার পরিদর্শনের বিষয়ে ড. জাহেদুল হাসান বলেন, পরমানু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি দল পরিদর্শন শেষে সন্তোষজনক রিপোর্ট ও চূড়ান্ত ক্লিয়ারেন্স দেয়ার পরেই আমরা ক্রিটিক্যালিটি পর্যায় শুরু করতে পারবো। অনুমোদন পাওয়ার আগে এর সুনির্দিষ্ট তারিখ ও সময় ঘোষণা করা সম্ভব নয়।