প্রার্থী বাছাই গ্রামগঞ্জে
সম্প্রীতি প্রতিবেদক
দেশবাসী আরেক দফা ভোটের লড়াইয়ে নামতে যাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি অনুযায়ী, আগামী অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে। এ বিষয়ে চলতি মাসের শেষ দিকে অথবা আগামী মাসের প্রথমার্ধের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এনিয়ে গ্রামগঞ্জে এরইমধ্যে নির্বাচনী তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। চলছে প্রার্থী বাছাইয়ের তৎপরতাও।
প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই ও প্রস্তুতি শুরু করেছে। দলীয় ও স্বাধীন প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সমর্থন চাচ্ছেন।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা এবং পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য স্থানীয় সরকার স্তরের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এই নির্বাচনকে বিভিন্ন রাজনৈতিক নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি ও মাঠের অবস্থা যাচাইয়ের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে।
ভোটের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা হবে। পর্যায়ক্রমে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় এক বছর সময় লেগে যেতে পারে। তিনি জানান, কোন স্তরের নির্বাচন আগে হবে, সে বিষয়ে কমিশনের আনুষ্ঠানিক কোন সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। তবে বাস্তবতা ও প্রশাসনিক প্রয়োজন বিবেচনায় প্রথমে ইউপি এবং পৌরসভা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। উপজেলা পরিষদ গঠনের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনের গুরুত্ব রয়েছে। তাই এ দুটি নির্বাচন আগে সম্পন্ন করে পরবর্তী সময়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত হওয়া নিবন্ধিত ভোটারদের নিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে। কমিশন থেকে এরকম নির্দেশনাই দেওয়া আছে। তবে কোন নির্বাচন আগে হবে- তার দিক নিদের্শনা এখনও আসেনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষ্যে আইন, বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধনের কাজ প্রায় শেষ। আচরণবিধির খসড়া কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মতামত আহ্বান করা হয়েছে। প্রাপ্ত মতামত যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সংযোজন ও বিয়োজন করা হবে। এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বাড়ানো হবে। অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ থাকছে না। নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে না। পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থাও থাকছে না। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনের মতো পোস্টার ব্যবহারও থাকবে না। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য প্রায় সাড়ে ৪ হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিক, ঋণখেলাপি এবং খেলাপি ঋণের জামিনদাররা প্রার্থী হতে পারবেন না। এ ছাড়া বাকি সব প্রার্থীরা আগের নিয়মে অংশ নিতে পারবে। নির্বাচন কমিশন এখন আগামী অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো চূড়ান্ত করছে।