
সূত্র : মোসতাফা সতেজের সংগ্রহ থেকে-
ঔপন্যাসিক গিরিবালা দেবী ও মহাশ্বেতা দেবী স্মৃতিচারণ করেছেন পাবনার দুর্গাপূজা নিয়ে। ব্রিটিশ শাসিত ঔপনিবেশিক সমাজ ব্যবস্থায় অভিজাত শ্রেণীর দুর্গোৎসব বর্ণনা করেছেন তারা। পূজোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংস্কৃতিক হাওয়া বেগবান হয়েছে। তাঁদের স্মৃতিকথা পাঠক হৃদয়ে উপভোগ ও আশ্চর্যময়তা- দুটি অনুভব মিলে মিশে যায় এক সঙ্গে। এঁদের কলমে একের পর এক ছবির মতন ফুটে উঠেছে পুরনো পাবনার পূজো পাঁচালি। দুজনাই পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার জল হাওয়ায় বেড়ে উঠার পর স্থানান্তরিত হন কলকাতায়। সেকালের পূজোর দিনগুলিকে ঘিরে গার্হস্থ জীবনের পূর্ণাঙ্গ ছবি একেছেন গিরিবালা দেবী।
গিরিবালা দেবী তাঁর মেয়েকে বলেছেন, ‘সমস্ত কিছু এমনভাবে লিখে গেলাম যাতে আমাদের প্রাচীন পূজা-আর্চা ব্রত নিয়ম নিখুঁতভাবে প্রতিফালিত হয়। লোকে পড়ে সম্পূর্ণ জ্ঞান পেতে পারে।’ নিজের জীবন সম্বলিত লেখা রায়বাড়ি (১৯৯১) উপন্যাসে গিরিবালা লেখেন, ‘অনেক রাতে নবমীর আরতি সম্পন্ন হইল। যাত্রার পালা ছিল। বৃন্দাবনলীল। রাত শেষের দিকে গানও শেষ হইয়া আসিল। …….আজই ভোর বাজানো শেষ। বিজয়ার পরের দিন বাজনাদারেরা বিদায় লইবে। তাহাদের প্রাপ্য ধুতি-চাদর, কলা, আখ, নারিকেল, টাকা-কড়ি, বাহিরমহল হইতে বুঝিয়া লইয়া অন্দরে আসিবে বিদায় লইতে। বাড়ির প্রত্যেককে দিতে হইবে শাড়ি, ধুতি, গায়ের চাদর, জামা শেমিজ। ইহারা স্থানীয় লোক। ইহাদের উপজীবীকা বাজনা। ………..বিসর্জনের বাজনা বাজিতেছিল। হীরাসাগর নদী অবধি নৌক চলাচল করিতেছে। সেই কারণে প্রতিমা নৌকায় তুলিয়া নদীতে বাইচ দিতে লওয়া হইবে। নিজেদের এলাকা ভিন্ন রায় বংশেরা। অন্য কাহারও মাটিতে প্রতিমা বির্সজন দেন না। এমনি তাহাদের আভিজাত্য ও বংশ গরিমা। নদীতে রায়দের নৌকা নাই। নদীবিহীন গ্রামের প্রান্তে চলনবিল নদী সংলগ্ন। সেই বিলের উপকণ্ঠে অনেকটা ভাঙা জায়গায় রায়গোষ্ঠীর শ্মশানভূমি। মৃত্যুর কাছেও ইহাদের গর্ব পরাজিত হয় নাই। এমনই গর্বিত বংশের ধারা। বাহিরের ফুলবাগানের অদূরে যে গভীর দহ আছে, সেই খানেই ইহাদের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। দহের নাম দুর্গাদহ। ……… হীরাসাগর নদীর মোহনার নাম মোহনগঞ্জ। এখানেই নৌকার সারি থামিয়া গেল। ……..নাকালিয়া বন্দরের যত প্রতিমা, পাথরকুচি গ্রামের যত প্রতিমার নৌকা সব একত্রিত হইয়া মোহনগঞ্জ ও বন্দর অবধি বাচ খেলিতেছে। প্রতি নৌকার সহিত বাজনার নৌকা। পাথরকুচি গ্রামের মেয়েরা প্রতিমার নৌকার সহিত নৌকায় যায় না। তীরে সমবেত হইয়া নিরঞ্জন দর্শন করিয়া থাকে। ……….প্রতিমার নৌকা চলিল দুর্গাদহের দিকে। তাহার পশ্চাতে অনুচর-পার্শ্বচরদের নৌকা। অদূরে ছোট খাটো একটা মেলা বসিয়াছে। ……….জিলিপিগুলি রায়বাড়ির বরাদ্দ, যাহারা প্রতিমা বিসর্জন দিবে, সেই গঙ্গা পুত্রদের জন্য। ………প্রতিমাকে জলে নিক্ষেপ করিয়া তাহার উপরে ঝাপাইয়া পড়িল জেলেরা। প্রতিমা ভাসিয়া উঠা অমঙ্গল। তাহারা উঠিয়াই ভিজা কাপড়ে ভিজা গায়ে জিলিপির পাতা লইয়া বসিয়া গেল। বাদ্যকরেরা বাজনা বাজাইতে লাগিল শূন্য মন্ডপের সম্মুখে। এ বাজনার ভিতরে সে আনন্দ গীতির আভাস নাই। করুণ বিলাপ তান ঝরিয়া পড়িতেছে। ……..বিজয়ার রাত্রে রায় পরিবারে ভাত মাছ অচল। সকলের লুচি পুরির ব্যবস্থা হইল।’

আরতি সম্পর্কে গিরিবালা লেখেন, ‘আরতি শেষে সারি গানের গায়করা অগ্রসর হইল। ইহারা আউল বাউলের দল নয়। সারি গায়কের দল। ইহারা জাতিতে মুসলমান। পূজার সময় গ্রামান্তর হইতে আসিয়া পূজা বাড়িতে নাচিয়া গাহিয়া পার্বনী আদায় করে। সংখ্যায় সাত আটটি লোক। সকলের পরিধানে কোরা বিলেতি ধুতি। গায়ে চাদর। পায়ে পিতলের নুপুর ও হাতে এক তারা। বা হাতে কোঁচার খুঁট ধরিয়া ডান হাত ঊধের্ব তুলিয়া মাথার বাবরি চুল ও বুক সমান দাড়ি দোলাইয়া নাচিয়া নাচিয়া গাহিতে লাগিল ……..। ইহার পরে ধুপ ভাঙ¢ার পালা। ……….ইহার পরে সর্দারেরা লাঠি খেলা দেখাইবে। সবশেষে গোলবারান্দার আঙিনায় যাত্রা গানের আসর। রায়বাড়ির দুর্গাপুজার ভোগশালা কাঠা পাঁচেক জমি জুড়িয়া। ………বন্দুকের ফাকা শব্দ করিয়া বাড়ি হইতে কাক, চিল, কুকুর, বিড়াল তাড়াইয়া দেওয়া হইল। মন্ডপের এক পাশে গালিচা পাতিয়া মেয়েদের বসিবার স্থান করা হইয়াছে। ………ঝাড়ের বাতি, গ্যাস ও হ্যাজাকের আলোয় মন্ডপ আলোকিত। বাজিতে ছিল গ্রামোফোন। সেকালে গ্রামীণ পূজোর প্রধান উপকরণ চিড়া, মুড়ি মুড়কি, মোয়া, তিলের নাড়–, ক্ষীরের চাঁচ, নারিকেলের তক্তি মুক্তাবশীর নাড়–, নারিকেলের চিড়া জিরার কথা তিনি উল্লেখ করেছেন। রায়ভবন অর্থাৎ জমিদার বাড়িতে দাস-দাসী এবং পাচকের অভাব নেই। তিনি উল্লেখ করেছেন ক্ষীরের নাড়– আর ঢ্যাপের মোয়ার কথা। এসবে দাসদাসীদের স্পর্শ করতে দেওয়া হয় না।’ ‘মন্ডপের আড়ায় ঝুলাইয়া দেওয়া হইয়াছে কাঁদি কাঁদি কলা, নারিকেল, আখ, ফাঁকে ফাঁকে রচনার হাঁড়ি। রচনা মানে ছোট ছোট মাটির হাঁড়িতে নিয়মের খই, মুড়কি, মুড়ি, চিড়া মোয়া, তিলের নাড়–, বাতাসা ভরিয়া ছোট ছোট সরায় মুখ ঢাকিয়া দড়ি দিয়া চারিদিকে ঝুলান। এগুলি পাইবে কামার, কুমার, ধোপা, নাপিত, বাদ্যকর, ছুতার, ভূমিমালি ও পদ্ম ফুল সংগ্রহকারীরা। মহাশ্বেতা দেবী।’ কথা শিল্পী মহাশ্বেতা দেবীর পূজোর স্মৃতিকথা উল্লেখ করছি। একথা তিনি লেখেন কলকাতার মাসিক মনোরমা পত্রিকায় ১৩৯৪ বঙ্গাব্দে।’
‘আমারদের গ্রাম ছিল পাবনা জেলায় নতুন ভারেঙ্গা। কলকাতা থেকে ঢাকা মেলে গোয়ালন্দ স্টেশনে পৌঁছানো যেত সকালে। পূজায় সকলেই দেশে যেতেন। গোয়ালন্দে স্টীমারে উঠে দেশের দিকে গমন। স্টীমারের নাম হত সাধারণত জলের পাখির নামে। কন্ডোল, ওয়াইলড ডাক- এমন সব নাম। পদ্মার উজানে একটি অংশের নাম যমুনা। স্টীমারের ওপরে প্রথম শ্রেণীর কামরা ও ডেক। ডেক থেকে দেখা যেত দু’পারে ছাপানো পদ্মা, আর পাড় ভেঙে পড়ছে ঝপ ঝপ করে। পথে যেতে দেখা যেত চিশ্চিহ্ন প্রায় তারানগর গ্রামের দেওয়ানজী কুঠি। ওই দেওয়ানজী আমার মায়ের মাতামহ এবং স্বর্গত কবি অমিয় চক্রবর্তীর পিতামহ যাদবচন্দ্র চক্রবর্তীর। ইনি পরে কুচবিহার স্টেটে জজ হন। দেশে যে পাকা বাড়ি করেন, তার নাম দেওয়ানজী কুঠি। পদ্মা পাড়ের গ্রাম পদ্মার কোলেই ফিরে যায়। দৌলতপুর ভারেঙ্গা, তারপর ধুলজামা ভারেঙ্গ, তারপর পুরনো ভারেঙ্গা, তারপর নতুন ভারেঙ্গা। নতুন ভারেঙ্গা পৌঁছবার আগে নগরবাড়ি, আর্চিয়া এমন অনেক স্টীমার স্টেশন পেরোতে হত। একবার প্রয়াত পরিচালক বিমল রায়, স্ত্রী ও ছোট্ট দুই মেয়ে নিয়ে আমাদের সঙ্গী ছিলেন। আর্চিয়াতে নেমে ওঁদের দেশ মাণিকগঞ্জে যাবেন। বিমল রায় ও আমার কাকা সুধীন ঘটক ত্রিশের দশকে সিনেমোটো-গ্রাফি শিখতে বিলেতে যান। ডেভিড লীন, আর্থার রডাংক, ফল্যাঙক কাপরা- এঁদের সঙ্গে ওই দুই বাঙালির ছবি আমাদের পারিবারিক অ্যালবামে অনেক দিন ছিল। যেখানে স্টীমার দাঁড়াত, সেখানে উত্তোলিত বাঁশের খাঁচা থেকে গরম রসগোল্লা ও পাতক্ষীর খাওয়া ছিল লোভনীয় ব্যাপার। স্টীমারে চেপে দেশেও যেতাম। মামাবাড়ি ঢাকাও যেতাম। স্টীমারের রান্না অসামান্য। টাটকা ইলিশের ঝোল ও মুরগির ঝোল ছিল ভোজনরসিকদের প্রিয়। নতুন ভারেঙ্গা গ্রামে আমার মাতৃআলয়, পিত্রালয়ও বটে। ঠাকুর্দা সুরেশ-চন্দ্র ঘটক আর মাতামহ নরেন্দ্রনারায়ণ চৌধুরী বাল্য বন্ধু। এঁর ছেলে ওঁর মেয়ে বিয়ে হবে তা যেন জানাই ছিল। নতুন ভারেঙ্গা গ্রামের কিছু ঐতিহ্য ছিল। স্বদেশী গ্রাম। সার্ভেন্ট সম্পাদক শ্যামসুন্দর চক্রবর্তীর বাড়ি আমাদের ঘটক বাড়ির পাশে। আন্দামানে অনশনরত, এবং জোর করে খাওয়াবার চেষ্টায় নিহত মোহিত মৈত্র মায়ের জ্ঞাতি ভাই মোহিত দা। কাকোরি ষড়যন্ত্র মামলার শহীদ রাজেন লাহিড়ীও মায়ের জ্ঞাতি ভাই। কে কেমন ভাই বলতে পারব না। বারেন্দ্র ব্রাহ্মণরা সবাই সবায়ের কেউ না কেউ হন। মাতামহ, পিতামহ, মা, বাবা, এঁরা থাকার সময়ে জানতাম সবাই খুব কাছের লোক। বড় মাসি গয়াতে থাকেন, তিনি এসব জানবেন। ভারেঙ্গাতে মামা বাড়ি, বা বড় বাড়িতে ছিল লাইব্রেরি ঘর। সেখানে ঘরে ঘরে লেখাপড়া। মার ঠাকুর্দাকে দেখিনি। জ্যাঠামশাই প্রথম নারায়ণ চৌধুরীকে দেখেছি। ওঁরা জমিদার ছিলেন। কিন্তু বলতেন, জমিদার খাজনা নেয়, জমির চাল নেয় না, চাল কেনে। ও কাজ করে জোতদার।’
‘এঁদের জমিদারির আয় নগণ্য ছিল, খাওয়াইন্যা ছিল অনেক। মার পিতামহ উমেশ চৌধুরী শেষ বয়সে কিরণশঙ্কর রায়দের জমিদারী তেঁওথায় চাকরি করতেন। আমরা মাতামহ ঢাকায় স্বদেশী উকিল, তাঁর ছেলেরাই আগে দাঁড়ান। পরিবারে যাঁরা কাজকর্ম করতেন, পাঁচজন দিয়ে থুয়ে পূজা হত। পিতামহ সুরেশ ঘটকের কোনো জমি ছিল না। বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা দুই বৌঠান থাকতেন ঘটক বাড়ি। তাঁদের খরচও ঠাকুর্দা পাঠাতেন, আর ঘটক বাড়ির পূজোও হত, বাবা ঠাকুর্দা, এঁদের খরচে। দু’বাড়ি কেন, ভারেঙ্গাতে কয়েকটি পূজোরই বৈশিষ্ট্য ছিল মাটির প্রতিমা, মাটির সাজ। বড় বাড়ির প্রতিমা বিসর্জনের আগে চরের মুসলমানরা এসে জারি গান করতেন, নইলে প্রতিমা বেরোত না। তারা ঢাল সড়কি নিয়ে আসত। বিসর্জনের নৌকায় আগে পিছনে তাদের নৌকা যেত, কেন তা বলছি। নতুন ভারেঙ্গা স্টীমার স্টেশন নদীর পাড়ে। কিন্তু আসল গ্রাম অনেক ভিতরে। সোনাপদ্মার খাল ধরে নৌকা চেপে যেতে হত। ঠাকুর ভাসানোর দিন, সোনাপদ্মা ধরে বড় নদীর পড়ার পর বাড়ির প্রতিমা আগে জলে ফেলা হবে, তারপর অন্যদের। এটি সম্মানের ব্যাপার। এটি যাতে সুনির্বাহ হয় তা দেখার জন্যই চরের প্রজারা আসত। আমরা যা দেখেছি। এই দুর্গাপূজার একটি বৈশিষ্ট্য বলব বলেই আজ কলম ধরা। কি বড় বাড়ি, কি ঘটকবাড়ি, পূজার সময়ে আত্মীয়, অনাত্মীয়, গ্রামের বাড়ির মানুষ, সবাইকে কাপড় দেওয়া হত, আর বিজয়ার দিন সন্ধ্যায় সবাই নতুন কাপড় পরে বিজয়া সম্ভাষণ করতেন। এই কাপড় মানে বঙ্গলক্ষী বা মোহিনী বা বাসন্তী মিলের ধুতি, শাড়ি, থান। সমন্ত কাপড় এক দামের। বিধবাদের থান, পুরুষদের লাল-কালো-সবুজ পাড়ের কাপড়। কত রকম নতুন পাড় তখন মিলের কাপড়েও আসছে। শঙখ পদ্ম পাড়, নৌকা-সূর্য-গাছ-গ্রাম আঁকা সিনারি পাড়, প্রদীপ পাড়, দশটাকার নোট, পাঁচ টাকার নোট ছাপা পাড়।’
‘পূজোর কাপড়ের গাঁঠারি খুললে তেমন ফ্যানসি পাড়ের দেখা মিলত না। দু’বাড়িতেই ছিল এক নিয়ম যে, তার বউ ছেলেমেয়েকে দামী কাপড় পরাতে চায়, কর্মস্থলে ফিরে গিয়ে পরাতে পারে। দেশের পূজায় তা চলবে না। সবাইকে এক রকমই পরতে হবে। দেশি মিলের কাপড়। নিয়মটি হয়তো ভালো ছিল। তবে শৈশবের মনে বড় অভিযান হত। বলার উপায় ছিল না। আর খাওয়া দাওয়ার ছিল একই রকম। সবাই এক খাদ্য খাবে, এর এটি, ওর ওটি চলবে না। ’
‘আগেই তো বলেছি স্বদেশী ভাবাপন্ন গ্রাম। দুর্গা পূজামন্ডপ উদ্বোধন করতেন। তারপর কোজাগরী লক্ষী, কার্তিক, কালী, জগদ্ধাত্রী পূজামন্ডপ বন্ধ করতেন। অনেকদিন ধরে চলত পূজাপক্ষ। এখন সে দিন নেই, সমাজব্যবস্থা নেই, তেমন মানুষরাও নেই। বড় বাড়িতে পূজার পর হত গ্রামীণ যাত্রাপালা, কৃষ্ণলীলা। একবার বড়-মামা শচীন চৌধুরী (ইকনমিক অ্যান্ড পলিটিকাল উইকলির প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক) উৎসাহ করে থিয়েটার দল আনান। কৃষ্ণলীলার সরলমেঠো গান, দেবলা-দেবী থিয়েটারের উত্তেজনা এখনো মনে আছে।’
‘তখনকার পূজায় এত গরম হাওয়া ছিল না, এখন যেমন দেখি। মোটা-মুটিভাবে মানুষজনের একটা অংশগ্রহণের ব্যাপার থাকত। আমাদেরও মাটির ঘর। বড় বাড়িতেও মাটির ঘর সব। চালচলতিও সাধারণ, বেশ মিশে যাওয়া যেত, হারিয়ে যাওয়া যেত। ভাঙনের দেশে পাকা দালান তোলা ভুল। আবহাওয়া খানিক অন্যরকম ছিল, শিক্ষা ও দেশপ্রেমের ঐতিহ্য ছিল। ছিল পরিবারে মেয়েদের খুব সম্মানের স্থান। এটা দুই পরিবারেই দেখেছি।’
‘আমার খেলুড়ি ছিল মামার দল। মায়ের কাকার ছেলে তেজুমামা ছিল খুবই দলের মানুষ। আমার গাছ চড়া, নৌকা চড়ে বিলের পদ্ম তোলা, জলে ঝাঁপাই, মাছ ধরার চেষ্টা, তেজুমামার সঙ্গে। আমাদের বাড়িটা যা তা, সে সব কথা যারা জানত, সবাই চলে যায়। ঋতিœক অনেক জানত, সেও নিরুদ্দেশ, ছোট ভাইগুলো পলাতক। তেজুমামাটাও চলে গেল সেদিন।’
‘দীর্ঘকাল ‘পূজা’ নামটির সঙ্গে যোগাযোগ নেই বললে হয়। শৈশবের সে সব পূজার স্মৃতি এখনো খুব কাছের বলে মনে হয়।’