এসো হে বৈশাখ
[দৃষ্টি আকর্ষণ : অতিথি লেখক তারিফ হোসেন বাংলা নববর্ষ ও পহেলা বৈশাখ উদযাপনে ব্যাপকভাবে গাওয়া বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত ও সুরকৃত বিখ্যাত সঙ্গীত ‘এসো হে বৈশাখ’ নিয়ে গবেষণামূলক বিশ্লেষণ এবং তাৎপর্য তুলে ধরেছেন। লেখার সবটাই তাঁর নিজস্ব বিশ্লেষণ। এরসঙ্গে সম্প্রীতি বাংলাদেশ-এর অভিমতের সম্পর্ক নেই। যেহেতু বিশ্বকবির গানটি নিয়ে এই বিশ্লেষণ মানুষের জানা-বোঝা-গবেষণা-চিন্তা-চেতনার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে, সে কারণে এটি পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো। লেখায় ব্যবহৃত ছবিগুলো সম্প্রীতি বাংলাদেশ-এর মুদ্রিত সংখ্যা এবং অনলাইন থেকে সংগ্রহ করা। – সম্পাদনা পর্ষদ, সম্প্রীতি বাংলাদেশ।]

তারিফ হোসেন
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘এসো হে বৈশাখ’ বাংলা সংস্কৃতিতে নববর্ষের অন্যতম প্রধান সংগীত-প্রতীক। কিন্তু গানটির অন্তর্গত কাব্যিক গতি লক্ষ্য করলে দেখা যায়- এটি কেবল নতুন বছরের আগমন উদ্যাপন করে না; বরং নতুনের জন্য পুরাতনের অপ্রয়োজনীয় সঞ্চয় অপসারণের একটি নন্দনতত্ত্ব নির্মাণ করে। গানটির কেন্দ্রে তাই ‘নতুন’ এর আগমনী বার্তা নয়, বরং নতুনত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য স্থান সৃষ্টি। এই প্রবন্ধের মূল অভিমত হল- ‘এসো হে বৈশাখ’ কে নবায়নের পূর্বশর্ত রূপে বিলয়ের কাব্যতত্ত্ব হিসেবে পড়া যায়। ‘বৈশাখ’ এখানে একইসঙ্গে ঋতু, তাপ, দহন, শুদ্ধি ও রূপান্তরের প্রতীকী শক্তি। তবে এই মরমী ব্যাখ্যাকে রবীন্দ্রনাথের প্রত্যক্ষ অভিপ্রায় হিসেবে দাবি করা নয়; বরং গানটির শব্দ, চিত্রকল্প, ক্রিয়াবিন্যাস এবং সাংস্কৃতিক শব্দস্মৃতির ভিত্তিতে একটি সম্ভাব্য অন্তর্লোক পাঠ নির্মাণ করাই এই আলোচনার উদ্দেশ্য।
রচনাকাল ও পাঠপ্রকৃতি :
‘এসো হে বৈশাখ’ রচিত হয় ২০ ফাল্গুন ১৩৩৩। রচনাটির প্রাথমিক গ্রন্থপাঠে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য পাওয়া যায় বনবাণী-র ‘বৈশাখ-আবাহন’ অংশে। সেখানে ‘অগ্নিস্নানে দেহে প্রাণে/শুচি হোক ধরা’ পাঠটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। পরবর্তী গীতবিতান-পাঠে ‘দেহে প্রাণে’ অংশটি আর নেই। কিন্তু ‘অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’ মূল ভাবটিকে বহন করে। এই পাঠভেদের গুরুত্ব শুধু শব্দসংখ্যায় নয়। ‘দেহে প্রাণে’ যুক্ত হলে শুদ্ধির ক্ষেত্রটি ব্যক্তিমানবের শরীর ও প্রাণ পর্যন্ত প্রসারিত হয়। ‘ধরা’ তখন কেবল বাহ্যিক পৃথিবী নয়, মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সমান্তরাল অস্তিত্বক্ষেত্রও হয়ে ওঠে। অতএব গানটির পাঠ-ইতিহাস নিজেই এমন একটি ব্যাখ্যার সুযোগ দেয়, যেখানে প্রকৃতির বৈশাখ ও মানুষের অন্তর্জগৎ পরস্পরের প্রতিরূপ।

বৈশাখ : একটি ঋতুনাম থেকে রূপান্তর-প্রতীকে প্রবেশ :
‘বৈশাখ’-এর সঙ্গে সংস্কৃত ‘বিশাখা’-র ঐতিহাসিক শব্দসম্পর্ক রয়েছে। ‘শাখা’ শব্দের অর্থ শাখা, অঙ্গ, বিভাজন বা শাখাপ্রশাখা; ‘বিশাখা’ একটি নক্ষত্রের নাম এবং ‘বৈশাখ’ তার সঙ্গে সম্পর্কিত মাসনাম। ভারতীয় জ্যোতিষ-ঐতিহ্যে বিশাখা ষোড়শ নক্ষত্র; তার সঙ্গে ইন্দ্র ও অগ্নির যুগল অধিষ্ঠানের কথাও পাওয়া যায়। এই শব্দতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রবীন্দ্রনাথের সচেতন পরিকল্পনার প্রমাণ নয়। কিন্তু এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থ-অনুরণন তৈরি করে। কারণ ‘এসো হে বৈশাখ’- এর বৈশাখ উত্তাপ, অগ্নি, দহন, ঝড়, বিলয় ও শুদ্ধির শক্তি হিসেবে যে রূপে উপস্থিত তা বিশাখার সঙ্গে যুক্ত ইন্দ্রাগ্নি-প্রতীকের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে পাঠ করা সম্ভব। আরও লক্ষণীয়, আভিধানিক ঐতিহ্যে ‘বৈশাখ’-এর একটি গৌণ অর্থ মন্থনদন্ড। এটিকেও রবীন্দ্রনাথের প্রত্যক্ষ অভিপ্রায় বলা যায় না; তবে প্রতীকী পাঠে বৈশাখ যেন সত্তার জমাট স্তরকে মথিত করে তার সঞ্চিত অবশেষকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ফলে এখানে ‘বৈশাখ’কে একটি রূপান্তরমূলক ঋতুশক্তি হিসেবে পড়ার অবকাশ তৈরি হয়।
গানটির প্রধান গতি : আগমন নয়, অপসারণ :
‘এসো হে বৈশাখ’-এর সবচেয়ে লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য তার ক্রিয়াবাচক ভাষা। বৈশাখকে আহ্বান করার পর একের পর এক উচ্চারিত হয়- ‘দূর হয়ে যাক’, ‘যাক’, ‘মিলাক’, ‘মুছে যাক’, ‘ঘুচে যাক’, ‘শুচি হোক’, ‘শুষ্ক করি দাও’। অর্থাৎ গানটির কাঠামো মূলত অপসারণমূলক। এটি নতুন কোনো সম্পদ, স্মৃতি বা সৌন্দর্য যোগ করার আহ্বান নয়। বরং যা জমে গেছে, যা জীর্ণ হয়েছে, যা আচ্ছন্ন করেছে তার অপসারণই প্রথম কাজ। এই কারণে গানটির অন্তর্গত সূত্রটি হতে পারে- সঞ্চয় → তাপ → বিলয় → শুদ্ধি → স্বচ্ছতা। নবায়ন এখানে শেষ ফল; তার পূর্বশর্ত হল বর্জন।

তাপসনিশ্বাস ও মুমূর্ষু সত্তা :
‘তাপসনিশ্বাসবায়ে/ মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে’এই পংক্তিতে বৈশাখের প্রথম কার্যটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ‘তাপস’ শব্দের সঙ্গে তাপ, তপস্যা, দহন ও সাধনার অর্থপরিসর যুক্ত। আর ‘মুমূর্ষু’ মানে মৃত্যুপথযাত্রী বা মৃত্যুমুখী। ফলে একটি প্রতীকী দ্বন্দ্ব তৈরি হয়; তাপসের উত্তপ্ত নিশ্বাস বনাম মুমূর্ষু সত্তা। বৈশাখের বাতাস এখানে কেবল গরম হাওয়া নয়; তা জড়তা-রোধক প্রাণপ্রবাহের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে। যে সত্তা স্থবির, ক্লান্ত বা মৃত্যুর দিকে ঝুঁকে আছে, তাকে সেই উত্তপ্ত বায়ু উড়িয়ে নিয়ে যায়। অর্থাৎ রূপান্তর শুরু হয় জড়তার বিচ্ছেদ দিয়ে।
আবর্জনা, স্মৃতি ও অশ্রুবাষ্প :
এরপর আসে ‘বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক।’ সময়ের সঙ্গে মানুষ শুধু অভিজ্ঞতা অর্জন করে না; অপ্রয়োজনীয় সঞ্চয়ও বহন করে। সেই সঞ্চয়ের নামই কবির ভাষায় ‘আবর্জনা’। তারপর আসে ‘পুরাতন স্মৃতি’ এবং ‘ভুলে-যাওয়া গীতি’। অতীত এখানে নিছক ইতিহাস নয়; তার একটি আবেগমথিত অবশেষ আছে। যা বিস্মৃত হয়েছে তার সুরও মাঝেমধ্যে বর্তমানের ভেতর থেকে যায়। ‘অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক’ এই পংক্তি সেই অবশেষকে আরও সূক্ষ্ম করে। অশ্রু এখানে বাষ্পে পরিণত হয়; অর্থাৎ আবেগ ধ্বংস হয় না, রূপান্তরিত হয়। এই অংশে বৈশাখের তাপ তাই দমনকারী নয়; তা জমাট আবেগকে অন্য অবস্থায় নিয়ে যায়।
গ্লানি, জরা ও অগ্নিস্নান :
‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।’ গ্লানি ও জরা- দুটি শব্দেই ক্ষয়ের অভিজ্ঞতা। একটি অন্তর্গত মলিনতার, অন্যটি জীর্ণতার। এর বিপরীতে আসে অগ্নিস্নান। আগুনের দ্বৈত প্রকৃতি এখানে গুরুত্বপূর্ণ। আগুন ধ্বংস করে, কিন্তু একই সঙ্গে শোধনও করে। তাই ‘অগ্নিস্নান’ নিছক দহন নয়; এটি দহনের মধ্য দিয়ে শুদ্ধি। প্রাথমিক পাঠের ‘দেহে প্রাণে’ সংযোজনটি এই প্রতীককে আরও গভীর করে- শুদ্ধির ক্ষেত্র একই সঙ্গে দেহ, প্রাণ ও ধরা। ফলে ব্যক্তি ও পৃথিবী একটি অভিন্ন রূপান্তর-পরিমন্ডলে যুক্ত হয়। এইখানে প্রকৃতির ঋতু মানুষের অন্তর্জগতের প্রতীকে পরিণত হয়।
রসের আবেশ : রসের প্রত্যাখ্যান নয় :
গানটির সবচেয়ে সূক্ষ্ম অংশ ‘রসের আবেশরাশি শুষ্ক করি দাও আসি।’ এখানে রসকে কেবল কাম বা ভোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করা অনুচিত। সংস্কৃত ‘রস’-এর অর্থক্ষেত্র স্বাদ, সুধা, সার, অনুভূতি, আনন্দ, প্রেম ও নান্দনিক আস্বাদ পর্যন্ত বিস্তৃত। অতএব কবি ‘রস’কে ধ্বংস করতে চাইছেন এমন সিদ্ধান্ত যথার্থ নয়। লক্ষণীয় শব্দটি হল ‘আবেশরাশি’। রস যখন প্রবাহমান, তখন জীবনদায়ী; কিন্তু যখন তা অতিরিক্ত আবেশে পরিণত হয়, তখন ওই রস আসক্তি ও বন্ধনের রূপ নিতে পারে। বৈশাখের শুষ্কতা সেই জমাট আবেশের প্রতিবন্ধক। সুতরাং এই পংক্তির মরমী পাঠ আনন্দের বিরুদ্ধে নয় বরং আনন্দের উপর জমে থাকা আসক্তির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান।
প্রলয়ের শাঁখ- বিলয়ের ঘোষণা :
‘আনো, আনো, আনো তব প্রলয়ের শাঁখ।’ এখানে গানটির রূপান্তরচিত্র চূড়ান্ত তীব্রতা লাভ করে। বাতাস ও তাপের পর আসে অগ্নি; এর পর প্রলয়। ‘প্রলয়’ শব্দের অর্থ বিলয়, ধ্বংস, অবসান বা পুনঃসংহরণ। মরমী পাঠে এটি কোনো সত্তার অস্তিত্ব-নাশ নয়; বরং একটি পুরাতন বিন্যাসের অবসান হিসেবে বোঝা যায়। আর ‘শাঁখ’ সেই বিলয়ের ঘোষণাধ্বনি। ফলে ‘প্রলয়ের শাঁখ’ যেন একটি অন্তর্গত ঘোষণা: যা শেষ হওয়ার, তা শেষ হোক। এই প্রতীকী স্তর ভারতীয় রুদ্র-শৈব কল্পনার সঙ্গে অনুরণিত হতে পারে বিশেষত দহন, ধ্বংস ও পুনর্গঠনের ধারায়।
মায়ার কুজ্ঝটিজাল- বিলয়ের চূড়ান্ত লক্ষ্য :
গানটির শেষ পংক্তি ‘মায়ার কুজ্ঝটিজাল যাক দূরে যাক।’ এখানে পূর্ববর্তী সব প্রতীক একটি চূড়ান্ত লক্ষ্যে এসে মিলিত হয়। কুজ্ঝটি মানে কুয়াশা বা ঘন আবছায়া। ‘কুজ্ঝটিজাল’ তাই এমন এক আবরণ, যা দৃষ্টিকে আচ্ছন্ন করে। তার সঙ্গে ‘মায়া’ যুক্ত হয়ে তৈরি করে অস্পষ্টতার প্রতীক। এখন গানটির অন্তর্গত গতি সম্পূর্ণ হয়: আবর্জনা সরেছে, কমে গেছে স্মৃতির ভার, অশ্রু হয়েছে বাষ্পীভূত, গ্লানি ও জরা মুছে গেছে, আবেশ শুকিয়েছে, প্রলয়ের ঘোষণা এসেছে- এবার মায়ার কুয়াশাও সরে যাবে। অর্থাৎ বিলয়ের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য ধ্বংস নয়; দৃষ্টি পরিষ্কার করা।

বৈশাখের অন্তর্জাগতিক রূপ
এই পর্যায়ে বৈশাখকে একটি অন্তর্জাগতিক প্রতীকে রূপান্তরিত করা যায়। বাইরের ঋতু যেমন প্রথিবীর দৃশ্যপট বদলে দেয়, তেমনি অন্তরের বৈশাখ সত্তার সঞ্চিত বিন্যাসকে পরিবর্তিত করে। এর একটি সংক্ষিপ্ত প্রবাহ চিত্র নিম্নরূপ- প্রকৃতি → দেহ → প্রাণ → স্মৃতি → আবেগ → চেতনা। বৈশাখ এই সমস্ত স্তরের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত একটি রূপান্তরিত-শক্তি। তাই ‘অগ্নিস্নান’ কেবল পৃথিবীর নয়, মানুষেরও; ‘আবর্জনা’ শুধু বছরের নয়, স্মৃতিরও; ‘মায়ার কুজ্ঝটিজাল’ প্রকৃতির পাশাপাশি চেতনারও। এই দ্বৈততা রবীন্দ্রনাথের প্রকৃতিচেতনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। প্রকৃতি কখনও শুধু বাইরে থাকে না; সেটা মানুষের অন্তর্জগতের ভাষাও হয়ে ওঠে।
মরমী পাঠের সীমা ও সম্ভাবনা
এই গানকে বৌদ্ধ, সাংখ্য, তন্ত্র, সুফিবাদ বা অন্য কোনো মরমী ঐতিহ্যের সঙ্গে তুলনা করা সম্ভব, কারণ এসব ধারাতেই আসক্তি, আবরণ, দহন, পরিশুদ্ধি ও আত্মরূপান্তরের নানা ধারণা রয়েছে। কিন্তু তুলনা ও উৎস-নির্ণয় এক বিষয় নয়। তাই অধিক সংযত অবস্থান হল ‘এসো হে বৈশাখ’ গানটি কোনো একটি নির্দিষ্ট দর্শনের গোপন সংকেত নয়, বরং গানটির প্রতীকী কাঠামো বহু মরমী ঐতিহ্যের সঙ্গে সংলাপযোগ্য। এই সতর্কতা মরমী ব্যাখ্যাকে দুর্বল করে না; বরং তাকে অধিক বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।
নববর্ষের সাংস্কৃতিক অর্থ ও কাব্যতত্ত্ব
পরবর্তী বাংলা সংস্কৃতিতে ‘এসো হে বৈশাখ’ নববর্ষের অন্যতম প্রধান সংগীতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এর কাব্যিক শক্তি উৎসবের আনন্দে সীমাবদ্ধ নয়। গানটির বিশেষত্ব হল- নববর্ষের আগমনের আগে সে জিজ্ঞাসা করে, কী নিয়ে আমরা নতুন বছরে প্রবেশ করব? উত্তর: জমে থাকা আবর্জনা নিয়ে নয়; নয় অতীতের অপ্রয়োজনীয় ভার বহন করে; গ্লানি ও জরাবাহক রূপে নয়; এমনকি অন্ধ আবেশ ও মায়ার কুয়াশা নিয়েও নয়। অর্থাৎ নতুন বছর শুধু শুধু ক্যালেন্ডারের পরিবর্তন নয়; তা হতে পারে চেতনার পুনর্বিন্যাস। এখানেই গানটি উৎসবের গান থেকে অস্তিত্বের গান হয়ে ওঠে।
‘এসো হে বৈশাখ’ তাই কেবল ঋতু-আহ্বানের গান নয়; এটি বিলয়, শুদ্ধি ও নবায়নের এক অন্তর্জাগতিক কাব্য। বৈশাখ এখানে পুরাতন সঞ্চয়, গ্লানি, জরা ও মায়ার আবরণ সরিয়ে নতুন চেতনার জন্য স্থান নির্মাণের প্রতীক। তার তাপ ধ্বংস করে, অগ্নি শুদ্ধ করে, প্রলয় বিলীন করে- আর সেই বিলয়ের মধ্য দিয়েই ঘটে নবজন্ম। এই অর্থে বৈশাখ কোনো বাহ্য ঋতুমাত্র নয়; সে মানুষের অন্তরে পুনর্জাগরণের এক চিরন্তন আহ্বান।
লেখক পরিচিতি-
- তারিফ হোসেন : লালন গবেষক, লেখক ও কুষ্টিয়ার সঙ্গীত শিল্পী