[লেখাটি সম্প্রীতি বাংলাদেশ-এর ২য় বর্ষ ৭ম সংখ্যায় (১৪ জুন ২০২৫) প্রকাশ হয়েছিল।]

কাজী হাবিবুর রহমান

[ওয়াকার. এ. খান, বাংলাদেশ ফোরাম ফর হেরিটেজ স্টাডিজ নামক এক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর বিভিন্ন গবেষণালব্ধ ইতিহাসভিত্তিক প্রবন্ধে তিনি ১৮৬৬ থেকে ১৯২০ সাল পর্যন্ত পূর্ব বাংলার কয়েকজন হিন্দু–মুসলমান ব্যারিস্টার নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি লিখেছেন যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পরিবারের গণনেন্দ্রমোহন ঠাকুর শুধু ভারতের মধ্যে নয়, সারা এশিয়ার মধ্যে সর্বপ্রথম ব্যারিস্টার হন ১৮৬২ সালে। কিন্তু তিনি কোন প্রাকটিস্ করেন নাই অর্থাৎ বারে যোগ দেন নাই। প্রাকিটিসিং বা বারে যোগদানকারী সর্বপ্রথম ব্যারিস্টার হলেন বিক্রমপুরের মনমহন ঘোষ। তিনি ১৮৬৬ সালে কলকাতা হাইকোর্টে যোগ দিয়েছিলেন।]

এবার আমরা একটু ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করি। ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিশ চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ঘোষণা  দেন। সারা ভারতে শুরু হলো জমিদারী প্রথা। এরপর ভারতে সংঘঠিত হলো সিপাহী বিদ্রোহ ১৮৫৭ সালে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত থেকে ভারতের দায়িত্ব গেল ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এবং রাণী ভিক্টোরিয়ার হাতে। জমিদারী বন্দোবস্তের ফলে জমিদারেরা ব্রিটিশ রাজের অনুগত শ্রেণিতে পরিণত হয়েছিলেন। এদিকে ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার হতে থাকে। জমিদারদের সন্তানরা উচ্চশিক্ষার জন্য ইংল্যন্ড গমণ করেন। বিশেষ করে সেই সময়ের বেংগল প্রেসিডেন্সি থেকে ছাত্ররা আইন, আইসিএস, ডাক্তারী, প্রকৌশলী এবং সামাজিক আর্টস-এর উচ্চতর ডিগ্রীর জন্য বিলাতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতেন। ‘ল’পাস করে ব্যারিস্টার হয়ে যারা দেশে ফিরে এলেন, তাঁরা সবাই কিন্তু হাইকোর্টে যোগ দিলেন না। কেউ কেউ ভারতীয় জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়লেন। আর যাঁরা হাইকোর্টে যোগ দিলেন তাঁরা আইনের সাহায্যে ব্রিটিশ রাজের বিপক্ষে, কলোনীর বিরুদ্ধে ধীরে ধীরে এক প্রচন্ড শক্তিশালী ভারতীয় আইন খাড়া করলেন। ফলে দেশে রাজনীতির  ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সৃষ্টি হলো।

ওয়াকার খানের উক্ত প্রবন্ধে এক চমৎকার জমিদার পরিবারের খোঁজ পাওয়া যায়। এই পরিবারটি ছিলেন পাবনা  জেলার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর গ্রামের। সেখানেই তাঁদের জমিদারী ছিল। এই পরিবারটি শুধুমাত্র বড় জমিদারই ছিলেন না এবং তাঁরা ব্রিটিশ বেংগলে শুধু নয়, সারা ভারতের ইতিহাসে, তাঁদের কাজকারবার এবং নামধাম, বহু গুণসম্পন্ন, পান্ডিত্যপূর্ণ এবং কৃতিত্বপূণরুপে তাঁরা প্রসংশনীয় হয়ে রয়েছেন। তাঁরা শুধুমাত্র আইন বিষয়ে নয়, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং ভারতীয় আর্মিতেও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছিলেন। এই পরিবারটি বিখ্যাত  জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের সঙ্গেও বৈবাহিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন।

হরিপুর গ্রামের দুর্গাদাস চৌধুরী ছিলেন পাবনা জেলার একজন বিখ্যাত ব্রাহ্মণ জমিদার। তিনি ছিলেন চৌধুরী ভাইদের পিতা। তিনি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বোন সুকুমারী দেবীকে বিয়ে করেছিলেন। এখানে

একটি প্রচলিত ঘটনার উল্লেখ করা যায় যে, দুর্গাদাস  চৌধুরী একবার ভদ্রতা রক্ষার্থে পাবনার ইংলিশ কালেক্টরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। কালেক্টর সাহেব তাঁর সঙ্গে এমন ব্যবহার করলেন যেন তিনি তাঁর ছেলের চাকুরির জন্য তাঁর কাছে গেছেন। তিনি এই ঘটনায় এত অপমানিত  বোধ করলেন যে, ফিরে এসে তাঁর বড় পুত্রকে ব্যারিস্টারী পড়ার জন্য বিলাতে প্রেরণ করলেন। তৎকালে ব্যারিস্টারী ছিল একমাত্র স্বাধীন পেশা যা ব্রিটিশ অ্যাডমিন নিয়ন্ত্রণ করতো না। আরেকটি বড় চাকুরি ছিল আইসিএস যা বিলাতের আইন কানুন-নিয়ম দ্বারা পরিচালিত হত। ফলে তাঁদের চালচলন ছিল ব্রিটিশ রাজের প্রতিনিধির মত।

দুর্গাদাস এবং সুকুমারী দেবী ৭টি পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। এই ৭ সন্তানের মধ্যে ৫ জনই হয়েছিলেন ব্যারিস্টার। তাঁরা হলেন ব্যারিস্টার স্যার আশুতোষ চৌধুরী (১৮৬৯-১৯২৪), ব্যারিস্টার যোগেশ চন্দ্র চৌধুরী, ব্যারিস্টার কুমুদনাথ চৌধুরী (১৮৬২-১৯৩৩), ব্যারিস্টার প্রমথনাথ চৌধুরী (১৮৬৮-১৯৪৬), ক্যাপ্টেন মনমথনাথ  চৌধুরী, ডাক্তার সুহৃদ নাথ চৌধুরী এবং ব্যারিস্টার অমিয়নাথ চৌধুরী।

পাবনার এই উজ্জ্বল ও বিখ্যাত পরিবারের ‘৫টি ভাই’ ব্যারিস্টার হয়েছিলেন, এমন উদাহরণ শুধু পূর্ববাংলা নয়, সারা ভারতেও আর নেই। ১৮৮৬-১৯০৪ সাল পর্যন্ত শুধু বেংগল প্রেসিডেন্সিতে নয়, ব্রিটিশ ইন্ডিয়াতে এবং ইতিহাসে এরকম উজ্জ্বল ৫ ভাইকে পাওয়া যায় নাই। একই পরিবারের এই ‘৫ ভাইয়ের কৃতিত্ব’ নিয়ে বাংলাদেশী হিসাবে আমরা নিশ্চয়ই গর্ব করতে পারি।

পূর্ব বাংলার পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর গ্রামের স্যার ব্যারিস্টার আশুতোষ চৌধুরী (১৮৫৯-১৯২৪) কলকাতা হাইকোর্টের আইনজ্ঞ ছিলেন (১৯১২-১৯২০ পর্যন্ত)। এখানে একটা মজার কথা উল্লেখ করা যায় যে, সেই সময়ে একই নামের আরেকজন ছিলেন পশ্চিম বাংলার হুগলি জেলার স্যার আশুতোষ মুখার্জি (১৮৬৪-১৯২৪)। তিনিও বাংলার একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। তিনি ব্যারিস্টার ছিলেন না সত্য, তবে তিনিও কলকাতা হাইকোর্টের একজন বিখ্যাত আইনজ্ঞ ছিলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর পদে অভিষিক্ত ছিলেন। তবে উভয় আশুতোষ একই বছর ১৯২৪ সালে দেহত্যাগ করেন।

এখন পাবনার স্যার আশুতোষ চৌধুরী কিভাবে ব্যারিস্টার হলেন সে সম্পর্কে বলি। তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে লেখাপড়া শেষ করে ইংল্যান্ডের কেমব্রিজের সেন্টজোস্ কলেজে ট্রাইপোজ নিয়ে ১৮৮৫ সালে ব্যারিস্টার হন এবং কলকাতা হাইকোর্টে যোগ দেন ১৮৮৬ সালে। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আরেক ভাই হেমেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা প্রতিভা দেবীকে বিয়ে করেন। আশুতোষ চৌধুরী ‘স্যার উপাধি’ অর্জন করেন ১৯২০ সালে। তিনি ব্রিটিশ রাজের আমলে খুব শক্তিশালী এবং বিখ্যাত বেংগল ল্যান্ডহোল্ডারস্ এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি ছিলেন। কিছু সময়ের জন্য তাঁকে বেংগল লেজিসলেটিভ এ্যাসোসিয়েশনের সদস্য করা হয়। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের ডেপুটি চেয়ার হোল্ডার ছিলেন। ১৯১৫ সালে ভারতের বিখ্যাত ক্যালকাটা ক্লাবের প্রেসিডেন্ট হন ।

স্যার আশুতোষের ছোট ভাই অক্সফোর্ড থেকে লেখাপড়া শেষ করে ব্যারিস্টার হন (১৮৯৫) তাঁর নাম ব্যারিস্টার  যোগেশচন্দ্র চৌধুরী। তিনি বিয়ে করেন সরসীবালাকে। সরসীবালা ছিলেন ভারতের বিখ্যাত জাতীয়তাবাদী, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং নামকরা রাজনীতিবিদ স্যার সুরেন্দ্রনাথ চৌধুরীর (১৮৪৮-১৯২০) কন্যা।

ব্যারিস্টার আশুতোষ চৌধুরীর আরেক ছোট ভাই কুমুদনাথ চৌধুরী ব্যারিস্টার হয়েছিলেন। ব্যারিস্টার কুমুদনাথ  চৌধুরী ছিলেন ভারতের একজন নামকরা ব্যাঘ্র শিকারী। উত্তর ভারতের জঙ্গলে শিকার করতে গিয়ে তিনি ব্যাঘ্র আক্রমণে মারাত্মক আহত হন এবং পরবর্তীকালে মৃত্যুবরণ করেন ।

স্যার আশুতোষের আরেক ছোট ভাই হলেন ব্যারিস্টার প্রমথনাথ চৌধুরী (১৮৬৮-১৯৪৬)। সাধারণত তিনি প্রমথ  চৌধুরী নামেই বেশি পরিচিত। সাহিত্য জগতে তাঁর ছদ্মনাম ছিল ‘বীরবল’। তিনি বাংলা সাহিত্যে একজন বিখ্যাত লেখক হিসাবে পরিচিত ছিলেন। বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যে তিনি ছিলেন বিখ্যাত এক চালিকা শক্তি। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন তার চাচা শ্বশুর। তিনি বিয়ে করেছিলেন ইন্দিরা দেবীকে। ইন্দ্রিরা ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় ভাই সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা। প্রমথনাথ ছিলেন ভারতের প্রথম আইসিএস (১৮৬৩) অফিসার। তিনি প্রেসিডেন্সী কলেজ থেকে

ইংরেজিতে মাস্টার্স ডিগ্রি নেন এবং প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। তিনি ব্যারিস্টারী বিষয়ে লেখাপড়া করেন ইনার টেম্পলে এবং বিলাত কোর্টে ডাক পান ১৮৯৬ সালে। ব্যারিস্টার হিসাবে কলকাতা হাইকোর্টে যোগদেন এবং প্রাকটিস করেন। কিন্তু তিনি আইন বিষয়ে বেশী দিন মনোনিবেশ করেন নাই। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রতি ঝুঁকে পড়েছিলেন এবং এটা ছিল তাঁর আনন্দের স্থান। তিনি বাংলা সাহিত্যের উৎকর্ষ সাধনে নিজেকে নিয়োজিত করেন, ফলে তাঁর জীবনের শেষ ৪০ বৎসর সেখানে অর্থাৎ বাংলা সাহিত্য জগতে এক মর্যাদা সম্পন্ন স্থানে অবস্থান করেছিলেন।

বিখ্যাত চৌধুরী ভাইদের সর্বশেষ ভাই অমিয়নাথ চৌধুরীও ব্যারিস্টার হয়েছিলেন। তবে সাধারণে তাঁকে এ.এন.  চৌধুরী নামে জানতো। তিনি ল ডিগ্রি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রহণ করেন এবং ১৯০৪ সালে ‘বারে’ যোগ  দেন। একদিকে তাঁর বড় ভাই স্যার আশুতোষ চৌধুর ছিলেন স্বনামধন্য ব্যারিস্টার এবং গোঁড়া জাতীয়তাবাদী, অন্যদিকে অমিয় ছিলেন বিলাতী সংস্কৃতিতে সম্পুর্ণ নিমজ্জিত। তাঁর স্ত্রী ছিলেন সর্বান্তকরণে একজন পশ্চিমা সংস্কৃতির উত্তেজনা আনন্দোচ্ছলময় জীবনের অনুসরণকারীনি।

চাটমোহর উপজেলার হরিপুর অবস্থিত চৌধুরী জমিদারদের ভেঙেপড়া বাড়ি ঘর।

তাঁরা উভয়ে ২০ শতাব্দীর কলোনীয় কলকাতার উচ্চ সামাজিক গোত্রে খুবই জনপ্রিয় ছিলেন। ফলে তাঁদের  মেলামেশা-ওঠাবসা ছিল উচ্চ শ্রেণির ইউরোপীয় ব্যবসায়ী এবং ব্রিটিশ অফিসারদের সঙ্গে। অমিয়র বিবাহ হয়েছিল বিখ্যাত ব্যারিস্টার স্যার উমেশ চন্দ্র ব্যানার্জীর (১৮৪৪-১৯০৬) মিলি নামক কন্যার সঙ্গে। ব্যারিস্টার স্যার উমেশ ছিলেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস পার্টির প্রথম প্রেসিডেন্ট। সেই সময়কালে মিলি চৌধুরীর (ব্যানার্জী) কলকাতার উচ্চ মহলে বা সমাজে এক দুর্লভ খ্যাতি ও সম্মান ছিলো যে, তিনি প্যারিসের সোরবোন থেকে গ্যাজুয়েট ডিগ্রি নিয়েছিলেন।

অমিয়-মিলির পুত্র জয়ন্ত নাথ চৌধুরী (১৯০৮-১৯৮২) বিলাতের স্যান্ডহার্স্টের বিখ্যাত রয়াল মিলিটারী একাডেমী  থেকে পাশ করেছিলেন। পাকিস্তানের আইউব খান (১৯০৭-১৯৭৪) পরবর্তীকালে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন, তিনি জয়ন্ত চৌধুরীর সঙ্গে একই বছরে মিলিটারী একাডেমী স্যান্ডহাস্টে ব্যাচমেট ছিলেন। তাঁরা উভয়েই কিংস কমিশন লাভ করে ব্রিটিশ ভারতীয় সৈন্য দলে যোগ দেন ১৯২৮ সালে। পরবর্তীতে জয়ন্ত চৌধুরী যাকে সবাই আদর করে ‘মোছু’ বলে ডাকতো, তিনিই প্রথম বাঙালি যিনি স্বাধীন ভারতীয় আর্মির কমান্ডর ইন চীফ পদ অলঙ্কৃক করেন (১৯৬৩-১৯৬৬)। শুধু তাই নয়, ইতিহাসের বা নিয়তির কি এক অদ্ভূত পরিহাস যে দুজনে এক সঙ্গে স্যান্ডহাস্টের

গ্রাজুয়েট ডিগ্রী নিয়েছিলেন, এক সঙ্গে কিংস কমিশন পেয়ে ব্রিটিশ ভারতীয় আর্মিতে যোগ দেন এবং ১৯৬৫ সালে দুজনে দুই স্বাধীন দেশের পক্ষে মুখোমুখি এক ভয়ংকর যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিলেন। তখন আইউব খান ছিলেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট এবং পদাধিকার বলে আর্মির কমান্ডার ইন চীফ আর জয়ন্ত নাথ চৌধুরী ও.বি.ই ছিলেন স্বাধীন ভারতীয় আর্মির কমান্ডার ইন চীফ ।

প্রমথ চৌধুরীর ভিটায় জমিদারবাড়ির পারিবারিক পুকুরঘাট, পারিবারিক মন্দির ও পাঠাগার।

ওয়াকার খান তাঁর ইংরেজি ভাষায় লিখিত ‘আর্লি ব্যারিস্টার ফ্রম ইস্ট বেঙ্গল’ শিরোনামের প্রবন্ধটির সমাপ্তি  টেনেছেন এক হৃদয়গ্রাহী আপীল করে। সরকারের প্রত্মতত্ত্ব বিভাগ, কালচারাল এফেয়ার্স মন্ত্রণালয়, পাবনা জেলা প্রশাসক, পাবনা জেলা কাউন্সিল এবং পাবনা বার এসোসিয়েশনকে অনুরোধ করেছেন হরিপুরে অবস্থিত চৌধুরী জমিদারদের বাড়িঘর, যেটুকু যে অবস্থায় আছে, তা যেন সত্বর রক্ষা করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সঠিক সার্ভে করে জমিদার বাড়িটিকে মেরামত করে একটি লাইব্রেরি স্থাপন করা যেতে পারে। বিখ্যাত সাহিত্যিক প্রমথনাথ  চৌধুরীকে এইভাবে স্মরণীয় করে রাখা যেতে পারে। চৌধুরী পরিবার, বিশেষ করে পাঁচ ভাইয়ের কীর্তিকলাপ নিয়ে শুধু পাবনা নয়, সারা বাংলাদেশ গর্ব করতে পারে।

তথ্যসূত্র: ওয়াকার এ. খান, বাংলাদেশ ফোরাম ফর হেরিটেজ স্টাডিজের প্রতিষ্ঠাতা কর্তৃক ইংরেজিতে লিখিত।

কাজী হাবিবুর রহমান: ট্রাস্টি ও উপদেষ্টা, ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতাল ট্রাস্ট।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।