দৃষ্টি আকর্ষণ : লেখাটি দুই বছর আগে সম্প্রীতি বাংলাদেশ-এ প্রকাশ হয়েছিল। পাবনার ১৯৮ বছরে এসে সেই লেখার চতুর্থ পর্ব।

মোসতাফা সতেজ

যে কারণে পাবনা থানা জেলায় উন্নীত : ১৭৬৫ সালের পরে বড় বাজু ও কাগমারী পরগনার কাজীপুর সিরাজগঞ্জ ব্যতীত পাবনার বাকী অংশ রাজশাহী জমিদারীর অন্তর্ভুক্ত ছিল। নাটোরের রাজপরিবারের রানী ভবানী তখন জমিদারির স্বত্বাধিকারিনী ছিলেন। ১৭৭২ সালে গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস এর নির্দেশে গঠিত কমিটি অব সার্কিট পাবনাসহ রাজশাহীর জমিদারি রানী ভবানীর কাছে বন্দোবস্ত দেন। ১৭৯০ সালের দিকে পাবনার বেশির ভাগ অংশ রাজশাহী জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। তখন এ এলাকায় সরকারের দায়িত্বপূর্ণ কর্মচারীদের অভাব, পুলিশের অযোগ্যতা ও জমিদারদের পক্ষ থেকে ডাকাতি ঘটনার তথ্য গোপন রাখা বা এড়িয়ে যাওয়ার কারণে ডাকাতি ও রাহাজানি বিরাজমান ছিল। ডাকাতেরা দলে দলে গ্রাম অঞ্চলে ঘুরে বেড়াত। চলনবিল এলাকায় জলদস্যুদের উপদ্রব চলছিল দীর্ঘদিন ধরে। এদের প্রতিরোধ করতে ও শাসনতান্ত্রিক সুবন্দোবস্তের জন্য কোম্পানি সরকারের মন্তব্য অনুসারে পাবনায় সাময়িক ভাবে ১৮২৮ সালে জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়। ১৮৩২-এ তা স্থায়ী রূপ লাভ করে এবং তাকে স্বতন্ত্র ডিপুটি কালেক্টবর রূপে নিয়োগ করা হয়। জেলা সৃষ্টির আগে রাজশাহীর পাঁচটি থানা খেতুপাড়া, মথুরা, শাহজাদপুর, রায়গঞ্জ ও পাবনা এবং যশোরের চারটি থানা যথাক্রমে ধরমপুর, মধুপুর, কুষ্টিয়া ও পাংসা এই ৯টি থানা নিয়ে এজেলা গঠিত হয়। তখন পশ্চিম বাংলার মালদহ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মি. এ ডব্লিউ মিলস জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত হন। পাবনায় নীল বিদ্রোহ চলাকালে শান্তি শংখলা রক্ষার্থে লর্ড ক্যানিং ১৮৫৯ সালে এখানে একজন কালেক্টর নিযুক্ত করেন।

পাবনার ইতিহাসের বিখ্যাত বিভিন্ন ভবন

যখন কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে, তখন স্বভাবতই পাবনা জেলা ১৮৫৮ সালে ব্রিটিশ সামাজ্যের সম্রাজ্ঞী মহারানী ভিক্টোরিয়ার শাসনাধীনে চলে যায়। এর ফলে অনেক জেলার সীমানা পরিবর্তিত হলেও এ জেলার সীমানায় কোন পরিবর্তন হয় নি। ১৮৫৫ সালের ১২ জানুয়ারি ময়মনসিংহ জেলা থেকে সিরাজগঞ্জ থানা পৃথক হয়ে পাবনা জেলা ভূক্ত হয়। এর আগে ১৮৪০ সালে রায়গঞ্জ থানা বগুড়া জেলা ভূক্ত ছিল। ১৮৭৫ এ পুনরায় তা পাবনাভূক্ত হয়। ১৮৫৯ সালে মতান্তরে ১৮৬৩ সালে কুষ্টিয়া থানা নদীয়া জেলায় স্থান পায়। ১৮৭৮ সালের ১৯ জানুয়ারি জেলায় রেলপথ স্থাপিত হয়। ১৯২৬ সালে জেলায় মোটর সার্ভিস চালু হয়। ১৯৪০ সালে মেসার্স এইচ কে ব্যানার্জি এন্ড সন্স পাবনা ইলেকট্রিক কোম্পানি লিমিটেড নামে স্থাপিত হয়। এর পর পরই শহরে প্রচলন হয় রিকশা যানের। ২০০ বছরে পাবনা কি পেয়েছে? এ প্রশ্নের জবাব যত ভারী হবে তার চেয়েও বেশি ভারী না পাওয়ার বেদনা। অথচ জেলাবাসী সব কটি জাতীয় গণ আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। ১৮৭৩ সালের ভূমির খাজনা সংক্রান্ত আন্দোলনের ফল কেবল  এ জেলারই নয়। সারা বাংলার ইতিহাসে সুদুর প্রসারী হয়েছিল। এ জেলায় সৃষ্ট দাঙ্গা হাঙ্গামার ফলে কোম্পানি সরকার ভূমি সংক্রান্ত মকদ্দমা আইন তৈরি করে। পরবর্তী সময়ে এটা ১৮৮৫ সালের বেঙ্গল টেনান্সি এ্যাক্ট তৈরির মাধ্যমে স্থায়ী আইনের পরিপূর্ণতা লাভ করে। এই জেলায় অসংখ্য পরিবারের জীবন যাত্রার গুণগত উন্নতি ঘটেছে। বেড়েছে জীবন যাত্রার প্রত্যাশা। দুশ বছর আগেও এখানকার মানুষ দুস্যদের সাথে লড়াই করে অধিকার কায়েম করেছে। এখনও করছে। বর্তমানে ৯টি উপজেলা ও ১টি থানা নিয়ে গঠিত পাবনা জেলার কার্যক্রম চলছে। এরইমধ্যে জেলাটি শিক্ষা নগরীর স্বীকৃতি লাভ করতে চলেছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।