মালা মাহবুব

উত্তর জনপদের শেষ স্টেশন পঞ্চগড় যাওয়ার উদ্দেশ্যে নভেম্বরের ৫ তারিখ রাত এগারোটা ত্রিশ- এর পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনের একটা সিঙ্গেল কেবিন নিয়ে আমরা দুজন ঢাকার কমলাপুর থেকে যাত্রা শুরু করলাম। একটা কেবিনে দুইটা বার্থ। উপরের বার্থে আমার হাসব্যান্ড আর নিচের বার্থে আমি। এসি কেবিন, ছোট হলেও বেশ গোছানো।  ট্রেন যথাসময়ে ছেড়ে দিলো আর আমরাও কম্বলের নিচে ঢুকে ঘুমানোর চেষ্টা করতে লাগলাম। ট্রেনের দুলুনিতে কখন যে ঘুমিয়ে গিয়েছি বুঝতে পারিনি। সারারাত ঘুম আর জাগরণের ভিতর দিয়ে কেটে গেছে। ভোরের দিকে ঘুম ভাঙলো। আলো ফুটে উঠলো। একে একে পার হয়ে এলাম পার্বতীপুর, দিনাজপুর, পীরগঞ্জ ও ঠাকুরগাঁও রোড  রেলওয়ে স্টেশন। তারপর পঞ্চগড়। সকাল দশটা, স্টেশনে ট্রেন ঢুকলো।

পঞ্চগড় আসার দুটি উদ্দেশ্য। প্রথমত দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা আর দ্বিতীয়ত, তেতুলিয়া ও পঞ্চগড়  দেখা। ছোট বেলায় মায়ের কাছে অনেক গল্প শুনেছি পাটগ্রাম বা লালমনিরহাট থেকে শীতকালে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। বাবা চাকরিসুত্রে উত্তরের অনেক জায়গায় থেকেছেন মা এবং ভাইবোনসহ। তবে আমার শৈশব যেহেতু এদিকে কাটেনি, শুধুই গল্প শুনেছি- সেজন্য এদিকের প্রতি একধরনের স্মৃতির খোঁজে আসার ইচ্ছা ছিল। বেশ কয়েক বছর ধরে শুনেছি। শীতের শুরুতে তেতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। যদিও দার্জিলিং এবং নেপাল থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘায় সূর্যোদয় দেখেছি, কিন্তু দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে দূরের পাহাড় দেখার অনুভূতি সম্পূর্ণ অন্যরকম। তো  সেই উদ্দেশ্যে চলে এলাম পঞ্চগড়। যদিও অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত কাঞ্চনজঙ্ঘা  দেখা যায়, তারপর কুয়াশা বেশি হয়ে গেলে আর দেখা যায় না। সাধারণত আকাশ পরিস্কার থাকলে কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন  দেন। নইলে বিফল মনোরথ।

আমরা সকাল দশটায় নামলাম স্টেশনে। রিকশায় করে বাস স্টপেজে যাব। কিন্তু এখানে কোন রিকশর দেখা মিললো না, সবই ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা। যা সরাসরি তেতুলিয়া যায়। বাস না নিয়ে একটা অটো রিজার্ভ করে যাত্রা শুরু করলাম তেতুলিয়ার দিকে। পঞ্চগড় শহর ছেড়ে এগিয়ে চললাম মাত্র ৪০ কিলোমিটার পথ পারি দিতে হবে। হালকা শীতের আমেজ। এখনো ভালো করে সকাল হয়নি। নিরিবিলি শান্ত পথ চলা। মাত্র একঘণ্টা লাগবে তেতুলিয়া  পৌঁছাতে। এপথে যেতে যেতে দেখতে পেলাম পঞ্চগড় নামের সৃষ্টি হয়েছে যে পাঁচটি গড়ের নাম অনুসারে তারই  রেপ্টিকা। এখানে বলে রাখি, পঞ্চগড় নামের উৎপত্তি  দুই ধরনের মতবাদ প্রচলিত আছে। প্রথমত পঞ্চনগরী থেকে পঞ্চগড়। দ্বিতীয় মত অনুযায়ী পঞ্চ অর্থাৎ পাঁচ আর গড় অর্থাৎ দুর্গ এই দুই শব্দের সমন্বয়ে পঞ্চগড় জেলার নাম হয়েছে।পাঁচটি গড় হল ভিতর গড়, হোসাইন গড়, মীরগড়, রাজনগড় ও দেবনগড়। তেতুলিয়ার কাছাকাছি আসতেই  চোখে পড়লো সবুজ প্রপাতের মতো চা বাগান। সমতলে এমন সবুজ চাদরে মোড়া চা গাছ কখনো দেখিনি।

অটো চালক এক জায়গায় এসে অটো থামিয়ে দিলো। রাস্তার ধারে চা বাগান। কিছুটা দূরেই সীমানা পিলার। এপারে বাংলাদেশ আর ওপারে ভারত। চা বাগানে কাজ করছে শ্রমিক ভারতীয় অংশে। এখানে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে আবার শুরু হলো পথ চলা। এগিয়ে চললাম তেতুলিয়ার দিকে। রাস্তায় যানবাহন খুব কম, লোকজনও বিশেষ চোখে পড়ে না। শান্ত, নিরিবিলি শহর। প্রকৃতির খুব কাছে যেন জোরে কথা বললে প্রকৃতির ঘুম ভাঙানো হবে। সাড়ে এগারোটার দিকে পৌঁছে গেলাম পূর্ব নির্ধারিত হোটেলে। হোটেল তেতুলিয়া স্কয়ার। ঢাকা থেকেই বুকিং দেয়া ছিলো, তাই সহজেই রুমে এসে চেঞ্জ করে নাস্তা সেরে নিলাম আবার বের হবার জন্য।

যে অটোতে পঞ্চগড় থেকে এসেছি সেই আমাদের তেতুলিয়া ঘুরিয়ে দেখাবে, রয়ে গেল সন্ধ্যা পর্যন্ত। রাজু (আমাদের অটো চালকের নাম) প্রথমেই নিয়ে গল কাজী এন্ড কাজী টি এস্টেট রওশনপুর। এখানে প্রকৃতি আধুনিকতার মিশেলে এক নান্দনিক পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। বিশাল এলাকা জুড়ে চা বাগান। রিসোর্টে আছে কৃত্রিম জলাশয়। গেট দিয়ে ঢুকলেই হাতের ডানে লতাপাতার ছাওয়া অন্ধকারাচ্ছন্ন একটা পথ। এই পথ ধরে সবুজ চাদরের ছাউনি দয়া পথ ধরে এগিয়ে যেতে হবে। পথের শেষেই দেখা মেলে দৃষ্টি নন্দন কটেজ, একটা লেক। লেকের পাশে কয়েকটি কটেজ আর লেকের মাঝখানে রয়েছে বিশ্রামের জন্য একটা বিশ্রামাগার। এখানে যাওয়ার জন্য রয়েছে ব্রিজ। গাছ গাছালির মাঝে এমন কাঠের কটেজ, সবুজের মাঝ দিয়ে বয়ে চলা রাস্তা, বাংলো সব কিছুতেই আভিজাত্য আর নান্দনিকতার  ছোঁয়া। আর সমতলের চা বাগান যেন বয়ে চলা সবুজের গালিচা।

এরপর গেলাম বাংলা বান্দা জিরো পয়েন্ট। ওপারে ভারত এপারে বাংলাদেশ। কংক্রিটের তৈরি বিশাল জিরো। মহানন্দার তীর ঘেষে তেতুলিয়া জিরো পয়েন্ট। চারিদিকে সবুজ। সীমান্ত এলাকা হওয়ায় জিরো লেখার কাছে যেতে দিলো না। শুধুমাত্র মঙ্গলবার দুই দেশের মধ্যে কুচকাওয়াজ হয়। তখন অনুমতি পাওয়া যায়। ভারতীয় বিএসএফ এবং বাংলাদেশের বিজিবির মধ্যে করমর্দন হয়। সীমান্ত দরজা খুলে যায়। আকর্ষণীয় কুচকাওয়াজ দেখা হলো না আমাদের। হলো না জিরোর কাছে যাওয়া। দূর থেকে দেখে ফিরতে হলো।

জিরো পয়েন্ট থেকে নেপাল, ভূটান আর ভারতের শিলিগুড়ি খুব কাছে। নেপালের কাক্করভিটা মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে। আর শিলিগুড়ি ৭ কিলোমিটার দূরে। তিন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ আর বাণিজ্য পণ্য আমদানি রপ্তানির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই সীমান্ত।

এখান থেকে গেলাম মোটা বাঁশ চিকন বাঁশ দেখতে। বেশ বড় বাঁশ ঝাড়। কিছু বাঁশ মোটা আর কিছু চিকন। তবে বাঁশগুলি হলুদ রঙের। আর বাঁশের পোরগুলি ছোট ছোট। এখান থেকে চলে গেলাম মহানন্দার পাড়ে। সূর্য তখন বিদায় নিয়ে চাইছে। মহানন্দা নদীর ওপাড়ে দেখা যাচ্ছে একটা ব্রিজের মতো, যার ওপর দিয়ে বাস চলাচল করছে। স্থানীয়রা বললেন ওটা শিলিগুড়ি। এদিকে মহানন্দার জলে বিদায়ী সূর্য সোনালী আর রক্তিম আভা ছড়িয়ে অপূর্ব দৃশ্য রচনা করেছে। নদীর বুকে, আশেপাশে আসন্ন সন্ধ্যার নরম আলো এক মায়াময় পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।

সন্ধ্যা গাঢ় হওয়ার আগেই কিছু চাপাতা কিনে নিয়ে ফিরে এলাম হোটেলে। খুব ভোরে উঠে যেতে হবে ডাকবাংলো চত্বরে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্য। হোটেল চত্বরের পাশেই একটা বট গাছ। তার আশেপাশে খাবারের দোকান। গরম জিলাপি, বেগুনি, পিঁয়াজিসহ নানা ধরনের খাবার বিক্রি হচ্ছে। আর আছে বিশাল সশপ্যানে জ্বালানো দুধের চা। অপূর্ব স্বাদের বেগুনি আর চা খেলাম, এবং এই প্রথম দেখলাম আলাদা করে দুধের সর স্থানীয় মানুষ কিনে খাচ্ছেন।

খুব ভোরে উঠে একটা রিকশা ভ্যানে চড়ে চললাম মহানন্দার তীরে, ডাকবাংলোতে। বেশ শীত শীত লাগছে, সূর্য উঠতে তখনও অনেক দেরি। আঁধার তখনো কাটেনি। তাছাড়া  পৌঁছাতে হবে সূর্য উঠার আগেই। ডাকবাংলো চত্বরে গিয়ে দেখি মহানন্দার পাড়ে অনেক মানুষ দূরের আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। কেউ বড় ক্যামেরা স্ট্যান্ডের উপর  রেখে অপেক্ষায়, কেউ ড্রোন উড়িয়েছে। নদীর পাড় থেকে সিঁড়ি নেমে গেছে নদীর জলে। ঘাটে বাঁধানো  বেঞ্চ। আমরাও সবার সঙ্গে তাকিয়ে রইলাম অধীর আগ্রহে- কখন তিনি দেখা দেবেন। কেউ কেউ আলোচনা করছে গতকাল কখন  দেখেছিল।

অবশেষে হঠাৎ করেই  দেখি কুয়াশাভেদ করে একটা আবছা অবয়ব আকাশের বুকে জেগে উঠছে। যেন ধীরে ধীরে সুস্পষ্ট হচ্ছে রাজ সিংহাসন। সবাই উল্লাসে বলে চলেছে ঐ যে, ঐ যে। দৃশ্যমান হলো কাঞ্চনজঙ্ঘা। মনে হলো  মেঘের রাজ্যে এক সাদা আর লালের মিশেলে বিস্তীর্ণ একাকা জুড়ে বিশাল রাজ্য। খুব বেশী সময় নয়, একরাশ কুয়াশা এসে দৃষ্টি সীমানার আড়ালে নিয়ে গেল সেই রাজকীয় দৃশ্য। সবাই তখনও তাকিয়ে আছে- যদি আবার একটু সরে যায় কুয়াশা, যদি আবার দেখা যায় সেই দুর্লভ দৃশ্য। সকাল তখন সাতটা বেজে গেছে, তিনি আর আমাদের দৃষ্টি গোচর হবেন না। গত দুইদিন সবাইকে ফাঁকি দিয়েছেন, আজ তবু আমাদের দেখা দিয়েছেন। আর অপেক্ষা না করে ফেরার পথ ধরলাম।

যে ডাকবাংলো প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন করলাম, তার পাশ দিয়েই বয়ে চলেছে মহানন্দা নদী।  আর নদীর পার ঘেষে ভারত। এপাড়ে দাঁড়িয়ে ওপাড়ে ভারতের আলোজ্বলা ভোর দেখা কেমন যেন আচ্ছন্ন করে রাখে। আর ভিক্টোরিয়ান ধাঁচে তৈরি ডাকবাংলো অপরূপ সুন্দর। জানা যায় এটি নির্মাণ করেছিলেন কুচবিহারের রাজা। ভূমি  থেকে প্রায় ১৫-২০ মিটার উঁচু গড়ের এই ডাকবাংলো।

হোটেল ক্লোজ করে একটা অটো রিজার্ভ করে যাত্রা শুরু করলাম পঞ্চগড়ের দিকে। দু’ধারের পরিচিত দৃশ্যাবলী  দেখতে দেখতে এগিয়ে চললাম। পঞ্চগড় শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে মহারাজার দিঘি। উদ্দেশ্য সেখানে যাওয়া।

মহারাজা পৃথু স্থানীয় জনসাধারণের জলকষ্ট দূর করার জন্য বিশাল এক দিঘি বানিয়েছিলেন ১৫০০ বছর আগে, ভিতরগড়ে। দিঘিটির আয়তন প্রায় ২৪০০. ১২০০  ফুট এবং পানির গভীরতা প্রায় ৪৫ ফুট। ৫৪ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত, পাড়ের উচ্চতা প্রায় ২০ ফুট। ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রায় ২৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছিল ভিতরগড় দুর্গ নগরী। নগরীর  বাইরের আবেষ্টনীর উত্তরাংশ, উত্তর পশ্চিমাংশ এবং উত্তর পূর্বাংশ বর্তমানে ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার অন্তর্গত। কামরূপ এলাকায় রাজা জলেশ্বরকে বলা হয়েছে পৃথু রাজা। ভিতরগড়ে পৃথু রাজা  নির্মাণ করেছিলেন রাজপ্রাসাদ, মন্দির আর খনন করেছিলেন একটি বিশাল দিঘি। পৃথু রাজার এই দিঘি  মহারাজার দিঘি নামে পরিচিত। মহারাজার দিঘির প্রায় ১৩৫ মিটার দূরে পৃথু রাজার বাড়ি ছিল। পরবর্তী সময়ে কিচক নামের অসাধু ও নিম্নবর্ণের জনগোষ্ঠী দ্বারা আক্রান্ত হলে পৃথু রাজা ধর্মনাশের ভয়ে পরিবার পরিজন ও ধনরতœ নিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। 

দিঘিতে ভিতরগড় দুর্গনগরীর বাইরের আবেস্টনীর অংশ বর্তমান ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার অন্তর্গত। গাছ পালায়  ঘেরা মহারাজার দিঘিতে দশটি ঘাট। আমরা যখন মহারাজার দিঘির কাছে পৌঁছালাম তখন দুপুর, কিন্তু রৌদ্রের ঝাঁজ নেই। স্নিগ্ধ পরিবেশ। দিঘির চারিদিকে গাছ, পাখির কাকলী। একপাশে ছোট একটা সরকারি বাংলো ছিল, কিন্তু ব্যবহার এবং যতেœর অভাবে জরাজীর্ণ। সরকারের প্রতœতত্ব বিভাগের তৈরি সিঁড়ি দিয়ে উঠে এলাম দিঘির পারে।

জনশ্রুতি  আছে আগে এলাকার বাসিন্দাদের বিয়েশাদির প্রয়োজনে হাড়ি পাতিল, থালাবাসন আগেরদিন এসে চাইলে পরের দিন দিঘির ঘাটে তা পাওয়া যেতো। ব্যবহারের পর পরিস্কার করে দিঘির জলে ফেরত দিতে হতো। অনেকে নিজের মনোবাসনা পূরণের জন্য এখানে এসে মানত করতেন। এখন সেসবের কিছু নেই।তবে প্রতিবছর দিঘি ঘিরে  মেলা বসে। স্বচ্ছ জলের দিঘি মনে প্রশান্তি এনে দেয়।

পঞ্চগড়ের অটোয়ারী উপজেলায় ৪০০শ বছরের পূরানো মির্জাপুর শাহী মসজিদ আর ইমাম বাড়া দেখতে পঞ্চগড়ের আরেক দিকে যাত্রা করলাম। যেহেতু সন্ধ্যা হতে এখনো কিছুটা দেরি আছে, তাই অযথা হোটেলে বসে সময় নষ্ট না করে বেরিয়ে পরলাম। প্রতœতত্ত্ববিদরা ধারণা করেন, মুঘল শাসক শাহ সুজার শাসনামলে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। আবার কেউ কেউ মনে করেন দোস্ত মোহাম্মদ নামে জনৈক ব্যক্তি মসজিদটি বানিয়েছিলেন। সে যেই বানিয়ে থাকুন, মির্জাপুর শাহী মসজিদ-এর দৈর্ঘ ৪০ ফুট আর প্রস্থ ২৫ ফুট। মসজিদের একই সারিতে তিনটি গম্বুজ রয়েছে, প্রতিটি গম্বুজের কোণে একটা করে মিনায় রয়েছে। সামনের দেয়ালে বিভিন্ন কারুকাজ আছে যেগুলো একটি অন্যটি থেকে আলাদা। মসজিদে ফরাসী ভাষার একটি শিলালিপি রয়েছে যেটা থেকে ধারণা করা হয় এটি মুঘল আমলে নির্মাণ করা হয়েছিল। কিংবদন্তি অনুসারে, একটা ভূমিকম্পে মসজিদের কিছু অংশ ভেঙ্গে  যায় এবং ইরান  থেকে সংস্কারের জন্য লোক আনা হয়েছিল। মসজিদের ভিতরে নিয়মিত নামাজ হয়না বলেই মনে হলো। কারণ আঙিনায় নামাজের ব্যবস্থা আছে। দরজায় তালা থাকার কারণে ভিতরে যাওয়া সম্ভব হল না। বাইরের রঙ দেখে এতটা পুরনো মনে হয় না।

এর একটু দূরেই অনেক পুরনো একটা ইমামবাড়া। যার নির্মাণ শৈলী নজর কাড়ে। এর অভন্ত—রে একটি কক্ষ আছে। কক্ষের চারপাশে বেশ খানিকটা খোলা জায়গা বা বারান্দা, যার উপর রয়েছে খিলান স্তম্ভ। ইমামবাড়াট একগম্বুজ বিশিষ্ট। এটি লাল ইঁটে তৈরি। ইমাম বাড়া প্রাঙ্গণ, গেট, ঘরের দরজা, পিলার- কেমন এক শান্ত গাম্ভীর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

সন্ধ্যা হয়ে এলো, ফিরে এলাম হোটেলে। রাত কাটিয়ে ফিরে আসবো কর্মমুখর শহরে। কিন্তু পঞ্চগড় আর তেতুলিয়ার নির্জন ভালোলাগা মনের মাঝে রয়ে যাবে। শহরের ধুলো, কোলাহল এখনো  এদিকে আসেনি। কি ভীষণ শান্ত আর সবুজ প্রকৃতি, যেন রূপকথার অচিনপুরি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।