রিকশা-অটোর ধাক্কায় ‘হায় হায় অবস্থা’
সম্প্রীতি প্রতিবেদক
শহুরে ব্যস্ততার চাপে এখন পাবনার সড়ক পথও ভাবনায় ফেলেছে। শহরের প্রধান পথ আবদুল হামিদ রোড এখন রীতিমত জঙ্গিরূপ পেয়েছে। অটো, রিকশা, বাইক আর রাস্তার উপর বিস্তৃত হওয়া মালপত্র বোঝাই ফুটপাতের কারণে পায়ে হেঁটে চলাচলও দুষ্কর হয়ে উঠেছে।
অপ্রশস্থ একই সড়কে প্রায় বিশ রকমের যানবাহন চলাচল করছে। বেদখল হওয়া দুপাশের ফুটপাত দিয়েও হাঁটা যাচ্ছেনা। ফলে প্রতিদিনই রিকশা ও অটোর ধাক্কায় হেঁটে চলা মানুষের শরীর এবং পোশাক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সবমিলে সড়ক পথ এখন ‘হায় হায়’ অবস্থা তৈরি করেছে। প্রাপ্ত তথ্য বলছে, গত কয়েক মাসে অটোর ধাক্কা খেয়ে এই সড়কের বিভিন্নস্থানে মৃত্যুবরণ করেছেন বেশ কয়েকজন। আবার শহরজুড়ে প্রায় সব দোকানিই তাদের দোকানের সামনে ফুটপাতের উপর ব্যবসা করার জন্য মাসিক ভাড়ায় বরাদ্দ দিচ্ছেন নানা পসরা সাজিয়ে বসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। বাই সাইকেল, অটোবাইক, রিকশা, বৌ রিকশা, ভ্যান, কাভার্ড ভ্যান, রিপ্রেজেন্টটিটিভদের মোটর সাইকেল, নানা দোকানের পণ্য পরিবহনের গাড়ি, ডিলারশীপের গাড়িসহ আরওসব যানবাহনের চাপে সড়কটির এখন অস্থির দশা।
শুধু আবদুল হামিদ সড়ক নয়, বেনিয়াপট্রির অবস্থা আরও করুণ। পাঁচমাথা মোড় থেকে চেম্বার অব কমার্স ভবন দিয়ে যাওয়া খলিফাপট্টি মোড় পর্যন্ত প্রায় সব ব্যবসায়ীর মালামাল রাখা হচ্ছে দোকানের সামনের রাস্তাতে। দেখা গেছে, দোকানের ভেতরে থাকা মালামালের অর্ধেকই সাজিয়ে রাখা হয় দোকানের সামনে ফুটপাত ঘেষে। আবদুল হামিদ সড়কের এআর প্লাজা ও এআর কর্ণার মার্কেটের সামনে তাকালে মনে হয় এ জায়গায় মোটর সাইকেলের শো রুম করা হয়েছে। শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের পাশ দিয়ে রবিউল মার্কেটের রাস্তায় যেতে ডায়াবেটিকস হাসপাতালের পাশের মোড়ে অটোবাইক চালকদের মোড় দখল করে যাত্রী তোলার ঘটনা সাধারণ মানুষের জন্য সীমাহীন বিরক্তিকর হয়ে উঠেছে। রবিউল মার্কেটের পাশে এডভোকেট মাসুদ কমপ্লেক্সের মোড়ের অবস্থাও বেসামাল। এ সড়কে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বড় বাজার, গোপালপুর শিশু শিক্ষা নিকেতন, হলি চাইল্ড স্কুল, বেশ কয়েকটি কোচিং সেন্টার রয়েছে। শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের জন্য এখান দিয়ে চলাচল সীমাহীন কষ্টকর। ট্রাফিক পুলিশ ও পৌর ট্রাফিক সদস্যরা হিমশিম খাচ্ছেন মানুষের ভোগান্তি দুর করতে।
এদিকে যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধের লক্ষ্যে গত ২৫ আগস্ট থেকে আট দিনব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে সদর ট্রাফিক পুলিশ। অভিযানকালে হেলমেট না পরা, অবৈধ পার্কিং, যানবাহনের বৈধ নথিপত্র না থাকা এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার দায়ে অনেক মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন জব্দ এবং মামলা দায়ের করা হয়। অভিযানে নেতৃত্বদানকারী শহর ও যানবাহন পুলিশ পরিদর্শক সাদাকাতুল বারি জানান, শহরের যান চলাচল স্বাভাবিক ও সুশৃঙ্খল রাখতে আগামীতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ট্রাফিক পুলিশের এই সময়োপযোগী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও সাধারণ পথচারীরা।