একদিকে লোডশেডিং আরেকদিকে ভুতুরে বিল

সম্প্রীতি প্রতিবেদক
বিদ্যুৎ গ্রাহকরা এখন দ্বিমুখি বিপদে। একদিকে তারা প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না, আরেকদিকে তাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে অস্বাভাবিক বা ভৌতিক বিল। দুই থেকে তিন মাস ধরে চলছে এ অবস্থা। এতেকরে গ্রাহকদের মধ্যে নাভিশ্বাস পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এরই জের ধরে দেশের অনেক স্থানের বিদ্যুৎ অফিসে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে চলেছে।
গ্রাহকদের প্রধান অভিযোগ, এমনিতেই বিদ্যুৎ মিলছে একেবারেই কম। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের জ্বালায় অতিষ্ট হতে হচ্ছে। কল-কারখানা, দোকান-পাট, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান অচল হয়ে পড়ছে। সাধারণ মানুষ বাড়ি-ঘরে পর্যন্ত প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। তার উপর বিদ্যুতের বিল আসছে অস্বাভাবিক। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যেখানে তিন মাস আগেও মাসে বিল আসতো এক হাজার টাকার নিচে, সেখানে এখন আসছে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকার মত। বিদ্যুৎ নাই, ব্যবহার নাই- অথচ ভুতুরে বিল ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে প্রিপেইড বা স্মার্ট মিটার কয়েক ধাপ এগিয়ে গলা কাটছে।
সার্বিক বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ধারণা পাওয়া গেছে, তীব্র লোডশেডিংয়ের মধ্যেও স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি বা ভৌতিক বিল আসার পেছনে রয়েছে বেশ কতগুলি কারণ। যেমন মাঠপর্যায়ে মিটার রিডাররা সরেজমিনে না গিয়ে অফিসে বসে আন্দাজে বা অনুমাননির্ভর রিডিং লিখে বিল তৈরি করছেন, অতিরিক্ত বা ভুল ইউনিট এক মাসের বিলে যোগ করার কারণে গ্রাহকের ট্যারিফ বা বিলিং রেটের সর্বোচ্চ ধাপ (স্ল্যাব) স্পর্শ করছে, ফলে বিলের পরিমাণ আকাশচুম্বী হচ্ছে, প্রিপেইড মিটারে টাকা রিচার্জ করলেই মিটার ভাড়া, ডিমান্ড চার্জ এবং ভ্যাট বাবদ বড় অঙ্কের টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। সাধারণ গ্রাহকদের অভিযোগ, নতুন ডিজিটাল বা প্রিপেইড মিটারগুলো অত্যন্ত নিম্নমানের এবং এগুলো বসানোর পর আগের চেয়ে দ্বিগুণ দ্রুততায় ইউনিট কাটছে। এ অবস্থায় গ্রাহকদের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও অনেক জায়গায় পুলিশি ভয় বা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দিয়ে এইসব মিটার চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, জাতীয় গ্রিড থেকে গ্রামাঞ্চলে (পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায়) চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অনেক কম, ফলে শহর এলাকার তুলনায় গ্রামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং বজায় রাখা হচ্ছে।
প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, অতিরিক্ত গরমে দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং এবং সেইসঙ্গে অযৌক্তিক বিদ্যুৎ বিলের বোঝায় মফস্বল ও গ্রামীণ জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এইসঙ্গে কর্মকর্তাদের উদাসীনতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতা অভিযোগ আমলে না নেওয়া, অস্বাভাবিক বিলের বিরুদ্ধে স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসে (যেমন: পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বা নেসকো) অভিযোগ করতে গেলে কর্মকর্তারা তা সংশোধন না করে গ্রাহকদের উল্টো হেনস্তা করছেন কিংবা আগে বিল পরিশোধ করতে বাধ্য করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্মকর্তাদের ভেতরে দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা ও সমন্বয়হীনতা গ্রাহক সেবাকে আরও ভঙ্গুর করে তুলেছে। ফলে ভোগান্তি ও আর্থিক জুলুমের প্রতিবাদেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের উপকেন্দ্র ও কার্যালয়গুলোতে গ্রাহকদের হামলা, ঘেরাও এবং গণবিক্ষোভের মতো ঘটনা ঘটছে।