নভেম্বরকে সামনে রেখে আশাবাদ
সম্প্রীতি প্রতিবেদক
উৎপাদন শুরুর সময় বারবার পিছিয়ে যাওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে কবে নাগাদ বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে- তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, কেন্দ্রটি চালুর আগে বর্তমানে প্রেসারাইজার পাইলট অপারেটেড রিলেটেড ভালব (পিওআরভি)-এর ত্রুটি সারানোর কাজ চলছে। এরপর বিদ্যুতকেন্দ্রটিতে ফিউশন রিয়্যাকশন ঘটিয়ে পাওয়ার স্টার্টআপের কাজ শুরু হবে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি উৎপাদনে যাওয়ার আগে (বি-টু-ধাপে) দুই থেকে তিন সপ্তাহ এবং টারবাইন দিয়ে ৩০% স্ট্রীম তৈরিতে ছয় সপ্তাহ মিলে মাট নয় সপ্তাহ সময় লাগবে। এই হিসেবে আইডিয়াল প্রোগ্রাম যদি অনুসরণ করা হয়, তাহলে আগামী নভেম্বর মাসে উৎপাদনে আসবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র।
একটি সূত্র বলছে, প্রকল্প নির্মাণে জড়িতরা এখনও ফিউশন রিয়্যাকশনে যেতে পারেননি। ফিউশন রিয়্যাকশনে যাওয়ার আগে গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা রয়েছে। একে বলা হয়- প্রেসারাইজার পাইলট অপারেটেড রিলেটেড ভালব (পিওআরভি)। এই পরীক্ষাটিতে এ খন পর্যন্ত সফল হওয়া যায়নি। পিওআরভি শেষে যখন ফিউশন রিয়্যাকশন ঘটানো হবে তখন সেই পরীক্ষাতেও কারিগরি ত্রুটি দেখা দিতে পারে। পিওআরভি-তে ৯০টি পরীক্ষার মধ্যে ৮৯টিতে এসে আটকে গেছে কর্তৃপক্ষ। এরপর যখন ফিউশন রিয়্যাকশন ঘটানো হবে তখন শুধু ক্রিটিক্যাল পরীক্ষাই থাকবে ১৮টি। এই ১৮টির মধ্যে এক-দুইটিতে কারিগরি ত্রুটির জন্য কর্তৃপক্ষ আটকে যেতেই পারে। এক্ষেত্রে শিডিউল অনুযায়ী রূপপুরের কাজ সময়মতো শেষ হওয়া নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, আইডিয়াল প্রোগ্রাম যদি অনুসরণ করি তাহলে আগামী নভেম্বরের মধ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি উৎপাদনে যেতে পারে বলে আশা করছি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কোন পরীক্ষায় আটকে গেলে সময় আরও পেছাতে পারে। তিনি আরও বলেন, শিডিউল অনুযায়ী রূপপুরের প্রথম ইউনিটের উৎপাদনের আসার এক বছর পর দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদনে আসার কথা। কিন্তু মাঝখানে করোনা ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে প্রকল্পের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা যায়নি। এতে ২য় ইউনিট থেকে কিছু যন্ত্রপাতি এনে প্রথম ইউনিটের কাজ চালিয়ে যেতে হয়। ফলে ২য় ইউনিটের ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি আবার নতুন করে সরবরাহের জন্য ঠিকাদার এরইমধ্যে অর্ডার দিয়েছে। এই যন্ত্রপাতিগুলোর কিছু এসে গেছে, কিছু এখনও আসছে। যন্ত্রপাতির এই সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘিœত হওয়ায় এবং আবার বাইরে থেকে এনে স্থাপন করার কারণে কাজের যে অগ্রগতি তাতে ২য় ইউনিটের উৎপাদন এক বছর পর শুরু করা বেশ কঠিন হয়ে পড়বে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই প্রকল্পে বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের আরও কিছু চুক্তি সম্পন্ন করা বাকি রয়েছে। এগুলো হল- অপারেশনাল সাপোর্ট, রিপেয়ার মেইনটেন্সেস এবং স্পেয়ার পার্টস সরবরাহের সহযোগিতা সংক্রান্ত তিনটি চুক্তি। তবে এই চুক্তিগুলো করার বিষয়ে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।