কূপের জন্য তৈরি হচ্ছে ৬ একর জমি

আহমেদ হুমায়ুন কবির তপু

পদ্মা ও যমুনা নদীর কাছে মোবারকপুর থেকে প্রতিদিন ২০ মিলিয়ন ঘনফুট জ্বালানি গ্যাস পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। এই স্থানে পুরো ২০ বছর ধরে উত্তোলন করার মত গ্যাস মজুত রয়েছে বলে ধারণা। এ গ্যাস উত্তোলনের জন্য শুরু হয়েছে যাবতীয় কর্মপ্রস্তুতি। গ্যাস কূপের জন্য ৬ একর জায়গা নির্ধারণ করে চলছে সাইট প্রস্তুত ও পাইলিংয়ের কাজ।

মোবারকপুরের অবস্থান যমুনা নদীর কাজিরহাট ফেরিঘাট থেকে ১২-১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে। রাজধানী ঢাকা থেকে পাটুরিয়া ফেরিঘাট দিয়ে যমুনা পার হয়ে কাজিরহাট ঘাট দিয়ে সিএনজি, অটোরিকশা বা বাসে করে সুজানগর উপজেলার আহম্মদপুর ইউনিয়নে মোবারকপুরে পৌছানো যায়। আর পাবনা থেকে সুজানগর-বনকোলা-আহম্মদপুর বাজার হয়ে পৌছার পথ। সরাসরি কাজিরহাটগামী বাস, সিএনজি বা লেগুনায় যাওয়া যায়। পদ্মা নদী থেকে উত্তর দিকে অবস্থিত এই স্থানের দূরত্ব ৫ থেকে ৮ কিলোমিটার।

প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, গত ২৭ জুলাই থেকে মোবারকপুর সাইটের পাইলিং কাজ শুরু হয়েছে। ৫.৫ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ এই প্রাথমিক অবকাঠামো নির্মাণের কাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। গ্যাস কূপের জন্য সুজানগর উপজেলার আহমেদপুর মৌজায় ৬ একর জমি অধিগ্রহণ করে বাপেক্স-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মূল খনন কাজের চুক্তি ও পরিকল্পনা ঠিকাদার হলো চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সিএনপিসি চুয়ানকিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (সিসিডিসি)। চীনা এই কোম্পানিটিই কুমিল্লার ‘শ্রীকাইল ডিপ-১’ কূপে খনন কাজ করছে। সেখানকার কাজ শেষ করে তারা মোবারকপুরে রিগ (খনন যন্ত্র) স্থানান্তর করবে। মূল খনন শুরুর সময় ২০২৮ সালের মাঝামাঝিতে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাটির নিচে রেকর্ড ৬,০০০ মিটার (৬ কিলোমিটার) গভীরে খনন করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ এখান থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু হতে পারে। ২০ বছর ধরে দৈনিক অন্তত ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এই প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকার ঋণ হিসেবে ৯০৯ কোটি টাকা এবং বাপেক্স ২২৭.২৫ কোটি টাকার জোগান দেবে। এখানে উল্লেখযোগ্য যে, এর আগে ২০১৪ সালে এখানে বাপেক্স ৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪.৫ কিলোমিটার গভীরতায় খননের উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু মাটির গভীরে অত্যাধিক গ্যাসের চাপ ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির অভাবে তখন প্রকল্পটি অসম্পূর্ণ রেখেই স্থগিত করতে হয়েছিল। উল্লেখ্য, বর্তমানে যেখানে প্রকল্পের কাজ হচ্ছে সেটি আগের প্রকল্প এলাকা থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে। তবে কর্মকর্তারা জানান, পুরো অঞ্চলেই গ্যাসের প্রাচুর্যতা রয়েছে। এখন সঠিক একটি স্থানে কূপ খনন করে গ্যাস উত্তোলন শুরু করতে পারলে পরপর আশেপাশে আরও একাধিক কূপ খনন করা যাবে।

কর্মকর্তাদের আশা, বারবার পরিচালিত ভূ-কম্পন জরিপে প্রাপ্ত ইতিবাচক ফলাফল অনুযায়ী মোবারকপুরে বিপুল পরিমাণ গ্যাস মিলতে পারে। তারা জানান, সফল হলে এটিই হবে উত্তরবঙ্গের প্রথম কার্যকরী গ্যাসক্ষেত্র, যা  থেকে অন্তত ২০ বছরের গ্যাসের চাহিদা মেটানো যাবে।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (পিএসসি, অপারেশনস অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানান, ২০১৪ সালে ৪.৫ কিলোমিটার খননের লক্ষ্য নিয়ে খনন কাজ করে নির্দিষ্ট সীমায় পৌঁছানোর পর তীব্র গ্যাস চাপের কারণে কাজ বন্ধ রাখতে হয়। ঐ চাপ অতিক্রম করে গভীরে যাওয়ার প্রযুক্তি তখন আমাদের কাছে ছিলনা বলেই সে সময় প্রকল্পটি সফলতা পায়নি। এখন সেই অভিজ্ঞতার আলোকে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৬ কিলোমিটারের বেশি গভীরে খননকাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মোবারকপুর ডিপ-১ প্রকল্পের পরিচালক এবং বাপেক্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক (অপারেশনস) এস এ এম মেরাজুল আলম বলেন, ৬ কিলোমিটারের বেশি গভীরে খননের জন্য উন্নত কারিগরি সক্ষমতার প্রয়োজন ছিল। এজন্য চীনা প্রতিষ্ঠান সিসিডিসি-র সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী সংস্থাটি খনন ও রিগ ফাউন্ডেশন নির্মাণ কাজ পরিচালনা করবে। তিনি নিশ্চিত করে জানান,  ভুমি অধিগ্রহণ করে প্রকল্প এলাকার ভূমির উন্নয়ন ও পাইলিংয়ের কাজ চলছে। ২০২৮ সালের জুন মাসের মাঝামাঝিতে ড্রিলিং শুরু হবে।   

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।