সম্প্রীতি প্রতিবেদক

স্কুলের প্রধান শিক্ষককে মাথা মনে করা হলে, সেই মাথা ছাড়াই ৫৪ শতাংশ স্কুলে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। এ চিত্র অনেক জায়গার মত পাবনাতেও।

জেলার নয়টি উপজেলায় মোট ১ হাজার ১৩৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৫২২টিতে প্রধান শিক্ষক থাকলেও বাকি ৬১৬টি বিদ্যালয়ই চলছে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে। অর্থাৎ ৫৪ শতাংশ প্রাথমিকেই কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। উপজেলাভিত্তিক তথ্য বলছে, সাঁথিয়ায় ১৭৮টির মধ্যে ৯৪টি, সুজানগরে ১৪৫টির মধ্যে ৯৩টি, চাটমোহরে ১৫৫টির মধ্যে ৯০টি, বেড়ায় ১১২টির মধ্যে ৭৪টি, পাবনা সদরে ১৮৫টির মধ্যে ৭১টি, ভাঙ্গুড়ায় ৯৯টির মধ্যে ৫৪টি, ঈশ্বরদীতে ১০০টির মধ্যে ৪৯টি, ফরিদপুরে ৮৪টির মধ্যে ৪৮টি ও আটঘরিয়া উপজেলায় ৭৮টির মধ্যে ৪১টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

পাবনা সদরের দাশপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আতিয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, অভিভাবক ছাড়া পরিবার যেমন চলতে পারে না, তেমনি প্রধান শিক্ষক ছাড়া স্কুলের শৃঙ্খলা থাকে না। দ্রুত এ পদে পদোন্নতি দেওয়া জরুরি।

শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকদের কাউকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে অন্য সহকর্মীরা তা সহজভাবে নেন না। এতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজে সমন্বয়হীনতা তৈরি হচ্ছে। দাপ্তরিক কাজেও নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে। তারা বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক প্রশিক্ষণের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় লিডারশিপ ট্রেনিংও হয় না।

অভিভাবকরা জানান, শিক্ষক সংকট আর প্রশাসনিক জটিলতায় পাবনার প্রাথমিক শিক্ষা খাত এখন অভিভাবকহীন। প্রধান শিক্ষক ছাড়াই জেলার অর্ধেকেরও বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে। দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এ পদগুলো শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও বিদ্যালয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কোনোরকমে কার্যক্রম চলায় একদিকে বাড়ছে শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ, অন্যদিকে নজরদারি ও জবাবদিহি দুর্বল হয়ে শিক্ষার মান নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।

ভুক্তভোগী শিক্ষকদের ভাষ্য, সবমিলিয়ে খুব সুশৃঙ্খলভাবে বিদ্যালয় চলছে না। শৃঙ্খলা ফেরাতে সবার আগে সমস্যাগুলোর শিক্ষকদের পদোন্নতি ও প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।