উপস্থাপনায় চমক

অনুপ্রেরণায় আয়েশা

শাহীন রহমান

যে বয়সে অনেক শিশুই মোবাইলে টিকটক কিংবা রিলস দেখে সময় কাটায়, ঠিক সেই বয়সে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে সংবাদ উপস্থাপনা করে তাক লাগিয়েছে পাবনার ১০ বছর বয়সী শিশু সৈয়দা আয়েশা আসিফ। তার বাবা  সৈয়দ আসিফ রানা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে কর্মরত এবং মা সৈয়দা মকবুলা মঞ্জুর গৃহিনী। তাদের একমাত্র কন্যা সন্তান আয়েশা। বর্তমানে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।

পাবনা পৌর শহরের শিবরামপুর এলাকার আজহার আলী রোডের ছানা ভিলার স্থায়ী বাসিন্দা হলেও চাকুরীর সুবাদে তারা বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সাল থেকে একুশে  টেলিভিশনের জনপ্রিয় শিশুতোষ সংবাদ অনুষ্ঠান ‘মুক্ত খবর’-এ নিয়মিত নিউজ প্রেজেন্টার হিসেবে কাজ করছে আয়েশা। ছোট বয়সেই ক্যামেরার সামনে তার আত্মবিশ্বাস, স্পষ্ট উচ্চারণ এবং সুন্দর উপস্থাপনা দর্শকদের নজর কাড়ছে। ছোট্ট এই মেয়ের প্রতিভা এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার গল্প।

শুধু সংবাদ উপস্থাপনাই নয়, পড়াশোনার পাশাপাশি আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, ভ্রমণ এবং গল্পের বই পড়তেও ভালোবাসে আয়েশা। নিজের সময়কে সৃজনশীল কাজে ব্যয় করেই সে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে নতুন স্বপ্নের পথে।

বর্তমান সময়ে যখন অনেক শিশু প্রযুক্তির অপব্যবহারে আসক্ত হয়ে পড়ছে, তখন আয়েশার গল্প অন্যরকম এক বার্তা দেয়। মোবাইলকে শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, শেখা ও নিজের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ হিসেবেও ব্যবহার করা যায়- সেটিই দেখিয়ে দিয়েছে এই ক্ষুদে সংবাদ উপস্থাপিকা।

আলাপকালে আয়েশা জানায়, ‘স্বপ্ন দেখার কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। ইচ্ছাশক্তি, পরিবারের সহযোগিতা এবং নিয়মিত চর্চা থাকলে ছোট বয়সেও বড় মঞ্চে নিজের জায়গা তৈরি করা সম্ভব।’ ভবিষ্যতে আরও ভালো সংবাদ উপস্থাপক হয়ে দেশের মানুষের ভালোবাসা অর্জন করার ইচ্ছা তার।

বাবা-মায়ের সঙ্গে সৈয়দা আয়েশা আসিফ  

আয়েশার বাবা সৈয়দ আসিফ রানা ও মা সৈয়দা মকবুলা মঞ্জুর তাঁদের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘মেয়ের সাফল্য শুধু তার নিজের অর্জন নয়, এটি বাবা-মায়ের ত্যাগ, ভালোবাসা আর নিরলস পরিশ্রমের সবচেয়ে সুন্দর প্রতিদান। সন্তানের প্রতিটি সাফল্যে বাবা-মায়ের চোখে যে আনন্দের অশ্রু ঝরে, সেটিই জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান পুরস্কার। একটি মেয়ের স্বপ্ন পূরণ মানে তার বাবা-মায়ের দীর্ঘদিনের আশা ও বিশ্বাসের জয়। যে সাফল্য বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটায়, সেই সাফল্যই সত্যিকারের সবচেয়ে বড় অর্জন।’

সত্যিই, প্রকৃত প্রতিভা কোনো বাধা-বিপত্তি বা প্রতিকূল পরিবেশে চাপা পড়ে থাকে না। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও সঠিক সুযোগ ও সময়ের মধ্যে প্রতিভা তার নিজস্ব আলোয় ঠিকই বিকশিত হয়। সৈয়দা আয়েশা আসিফ তারই জ্বলন্ত উদহারণ।

পাবনার ছোট্ট এই প্রতিভাবান শিশুর সাফল্য নিঃসন্দেহে অন্য শিশুদেরও নতুন করে স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করবে। পরিবার, সমাজ এবং শিক্ষকদের সহযোগিতা পেলে এমন আরও অনেক আয়েশা দেশের জন্য গর্বের কারণ হয়ে উঠবে। আয়েশার প্রতিভা দেখে হয়তো এভাবে আরও অনেক শিশুর হাতে মুঠোফোনের পর্দার পরিবর্তে উঠে আসবে গল্পের বই, মাইক্রোফোন, কিংবা নিজের স্বপ্নকে গড়ে তোলার নতুন কোনো মাধ্যম। ওই নতুন প্রতিভাবান শিশুদের প্রতিভা থেকে বেরিয়ে আসবে নতুন কোন অধ্যায়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।