বৃষ্টি হলেই বসতঘরে নর্দমার মল
Bysompriti.bd@gmail.com
আগস্ট 14, 2026 #নর্দমার মল, #সেরা দুর্ভোগ

প্রথম শ্রেণীর পৌরবাসীর সেরা দুর্ভোগ!

আহমেদ হুমায়ুন কবির তপু
বেশি বৃষ্টি হলে দেশের অনেক জনপদই পানিতে তলিয়ে যায়, কিন্তু পাবনার প্রথম শ্রেণীর পৌরবাসীর বাড়িঘর, দোকানপাট, রাস্তাঘাট সবখানে ছয়লাব হয়ে যায় পানির বদলে নর্দমার কালো কুৎসিত, ভয়ঙ্কর নোংরা ও দুর্গন্ধময় পদার্থে। বেশি বৃষ্টি হলে গোটা পৌর এলাকা দিনের পর দিন তলিয়ে থাকে বিষাক্ত তরল পদার্থে। কারণ, পৌর এলাকার কোথাও ড্রেনেজ ব্যবস্থা চালু নেই। ময়লা পরিস্কার বা কখনও কোন সংস্কার কাজ না করায় জনপদের সমস্ত নোংরা অবর্জনা এবং মল-মূত্র জমতে জমতে নর্দমা বোঝাই হয়ে সেগুলো উপচে পড়তে থাকে। বৃষ্টি হওয়া মাত্রই এ ময়লা বিস্তৃত হয় জনপদ জুড়ে।
প্রাচীন পাবনার বয়স প্রায় ১৯৮ বছর। আর পাবনা পৌরসভার বয়স দেড়শ বছর। প্রথম শ্রেণীর পৌরসভার মর্যাদা লাভ করার বয়সও প্রায় ৩৫ বছর। ওয়াকেবহাল সূত্র জানায়, ঐতিহ্য গৌরব এবং সেবা কর্মের সুবাদেই প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা মিলেছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই মর্যাদা বিলীন হয়ে গেছে। এর প্রধান কারণ, পৌরসভা পরিচালনায় কোন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নেই। গত ‘অন্তবর্তী সরকারের’ সময় থেকে এভাবেই চলছে পৌরসভা। ফলশ্রুতিতে সরকারি বরাদ্দ প্রাপ্তি এবং পৌরবাসী খাজনা-ট্যাক্সসহ বিভিন্নখাতে ফি দিলেও কোন উন্নয়ন কাজ হয়নি। এ অবস্থায় বর্ষা মৌসুম আসতেই নজিরবিহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পৌরবাসীকে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পাবনা পৌর এলাকার সমস্ত নর্দমা বা পয়নিস্কাষণের ড্রেনগুলো ময়লায় বোঝাই হয়ে আছে। এই নর্দমা দিয়ে পানি প্রবাহ নেই। ফলে বৃষ্টি হলেই পৌরবাসী ভোগ করেন ভয়াবহ দুর্ভোগ। কোন কাজ বা সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাঘাতগুলোও বিদ্ধস্ত। এরসঙ্গে দেখভাল না থাকায় শহরের ময়লা ফেলার জায়গাও হয়েছে এইসব সড়কের আশপাশ।
এসব বিষয়ে শহরের কালাচাঁদপাড়া এলাকার তেলের মিল ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলাম জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই তার মিলের প্রায় সব কাজ বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তা যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, কালাচাঁদপাড়া থেকে বড় বাজার, আর কালাচাঁদপাড়া থেকে টার্মিনাল এলাকার পুরো সড়ক জুড়েই খানাখন্দ। রাস্তার পাশের ড্রেনগুলো অকার্যকর। বৃষ্টি হলেই পুরো এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে, ড্রেনের দুষিত পানি ঢুকে পড়ে আবাসিক এলাকায়। অবস্থা এমন হয় যে, সড়ক দিয়ে যানবাহনতো দূরের কথা পায়ে হেঁটে চলারও কোন উপায় থাকে না।
পাবনা বড় বাজারের ব্যবসায়ী ময়েজ উদ্দিন বলেন, চলাচলে দুর্ভোগের কারণে বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্য অর্ধেকে নেমে এসেছে। হাসপাতাল সড়কের বাসিন্দা আলমগির হোসেন বলেন, হাসপাতাল সড়ক দিয়ে প্রতিদিন রোগী ও স্বজনদের যাতায়াত করতে হলে নজিরবিহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
রিকশাচালক কামাল হোসেন বলেন, পাবনা শহরের প্রায় প্রতিটি এলাকার রাস্তা বর্ষায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই ভাঙ্গাচোরা এসব সড়কে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, ফলে যানবাহন নিয়ে চলাচল করা যায় না। আতাইকুলা রোড এলাকার বাসিন্দা আঁখিনুর ইসলাম বলেন, আমাদের রাস্তাটি কয়েক বছর আগে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এখন সংস্কার কাজ চললেও রাস্তার মূল পয়েন্টগুলোতে কাজ আটকে আছে। যানবাহন তো দূরের কথা এ সড়কে পায়ে হেঁটে চলাচলও দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) পাবনা ইউনিটের সভাপতি এ বি এম ফজলুর রহমান বলেন, অধিকাংশ রাস্তারই বেহাল দশা। বৃষ্টি হলে ঘর থেকে বের হওয়াই দায়, আর বাইরে বের হলে রিকশা ভাড়া দ্বিগুণ বা তিনগুণ দিতে হয়। তিনি বলেন, পাবনা একটি প্রথম শ্রেণীর’ (ক্লাস-১) পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ন্যূনতম মানেরও নয়, যা নাগরিকদের সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় ঘটাচ্ছে। এছাড়া আরও অনেকেই বলেছেন, পাবনা শহরের যে কোন উন্নয়ন কাজ শুরু করার আগে সর্বপ্রথমে ড্রেনেজ ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়ন প্রয়োজন। না হলে কোন উন্নয়নই সুফল বয়ে আনবে না।
অভিযোগ সম্পর্কে পাবনা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. ওবায়দুল হক বর্ষায় জনগণের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, পৌরসভা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, পুরো পৌরসভার রাস্তাঘাট সংস্কার করতে কমপক্ষে ৩০০ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রয়োজন, যা এই মুহূর্তে পাওয়া সম্ভব নয়। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তাগুলোতে সংস্কার কাজ করা হচ্ছে।Edit