২৪ লাখের পোয়াবারো!

সম্প্রীতি প্রতিবেদক

সরকার সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১০০-১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। অর্থাৎ ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে সরকারি সুবিধার আওতায় চাকরিজীবীর সংখ্যা ২৪ লাখ (বেসামরিক ও সামরিক)। এঁরা ঘোষিত পে-স্কেল অনুযায়ী এই সুবিধা পাবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে আমজনতার ভাগ্যে ‘যোগফল’ যুক্ত হওয়া তো দূরে থাক- তাঁদের উল্টো পরিস্থিতর মুখে পড়তে হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্য বলছে, চাকরিজীবীদের বেতন ১০০-১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ফলে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হবে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। অথচ চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য রাখা হয়েছে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা। প্রশ্ন হলো, বাকি টাকা আসবে কোথা থেকে? অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের বাজেটের ঘাটতিই ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। ফলে পূর্ণ পে-স্কেলের অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ বর্তমান বাজেট ঘাটতির প্রায় ৪৩ শতাংশের সমান।

এমনিতেই নিত্যপণ্যের অগ্নিমূল্যে পুড়ছেন সাধারণ মানুষ। এরইমধ্যে কয়েক দফা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে তাঁদের আরও বেসামাল অবস্থায় ফেলা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা এবং ক্ষোভ। 

তথ্যানুযায়ী, সরকার যদিও একবারে পুরো পে-স্কেল বাস্তবায়ন করছে না। মূল বেতন ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে তিন ধাপে কার্যকর হবে। বিভিন্ন ভাতা একযোগে কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি  থেকে। ফলে সরকারের ওপর একসঙ্গে বড় ধরনের চাপ পড়বে না। অবশ্য অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, বেতন ও ভাতার বাড়তি ব্যয় একবার শুরু হলে তা আর এককালীন থাকবে না। প্রতি বছরই সরকারের স্থায়ী ব্যয় বাড়বে। এর সঙ্গে ভবিষ্যৎ ইনক্রিমেন্ট, পেনশন ও অন্যান্য সুবিধার ব্যয়ও বাড়বে। এখানেই রাজস্ব আদায় গুরুত্বপূর্ণ। রাজস্ব আয় না বাড়লে সরকারকে উন্নয়ন ও অন্যান্য ব্যয় কমাতে হবে, নয়তো ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, রাষ্ট্রের আয় বাড়ানোর সক্ষমতা না বাড়িয়ে নিয়মিত ব্যয় মেটাতে ঋণ নেওয়া হলে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক চাপ বাড়বে।

সার্বিক প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকরা মনে করেন, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ঘোষিত নবম পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়বে। কারণ দেশের সাড়ে ১৪ লাখের (বেসামরিক) বেশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারির বেতন বাড়লে শুধু মূল্যস্ফীতিই নয়- বৈষম্য, দারিদ্র্য ও তারল্য সংকটসহ আর্থ-সামাজিক নানাক্ষেত্রে সীমাহীন ঝুঁকি বাড়তে পারে। সবমিলে বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই বাস্তবতা ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে এসেছে। তবে সরকার কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেবে, বা দিতে পারবে কিনা- সেটাই এখন দেখার বিষয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।