পাবনায় যতো বিদ্রোহ

[লেখাটি সম্প্রীতি বাংলাদেশ-এর প্রস্তুতিমূলক সংখ্যায় (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩) প্রকাশ হয়েছিল।]

পাবনার  অত্যাচারী  নীলকর,  রক্তচোষা জমিদার, ব্রিটিশ বেনিয়া, হানাদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে বেপরোয়াভাবে। এই জেলাবাসী বিদ্রোহের ইতিহাসে রয়েছে কৈবর্তবিদ্রোহ, সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, নীলবিদ্রোহ, প্রজাবিদ্রোহ, সিপাহী-বিদ্রোহ,  স্বদেশি  আন্দোলন,  খেলাফত  আন্দোলন,  সলঙ্গা  বিদ্রোহের ঘটনা। 

কৈবর্তবিদ্রোহ : চলনবিলের  পার্শ্ববর্তী  এলাকাগুলোতে  কৈবর্তবিদ্রোহের  ঢেউ  লেগেছিল।  পালরাজ  দ্বিতীয়  মহীপালের রাজত্বকালে  ১০৫৫-১০৫৬  খ্রিস্টাব্দে  কৈবর্ত  নেতা  দিব্যক  ও  তার  ভাতুষ্পুত্র  ভীমের  নেতৃত্বে  বরেন্দ্র  অঞ্চলের  কৈবর্তরা বিদ্রোহ করেছিল। এ বিদ্রোহে রাজা দ্বিতীয় মহীপাল পরাজিত হয় এবং কৈবর্ত নেতা দিব্যক বরেন্দ্র অঞ্চল দখল করেন। তাঁর ভাতুষ্পুত্র ভীম গৌড় ও বরেন্দ্রীর সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। ভীম চলনবিলের উত্তর সীমান্তে তৎকালীন পাবনা জেলার সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়ার শেরপুর পর্যন্ত মাটির প্রাচীর বা ‘সুবিস্তৃত জাঙ্গাল’ নির্মাণ করেন, যা এখনো ‘ভীমের জাঙ্গাল’ নামে পরিচিত।

সিপাহী-বিদ্রোহ : ১৮৫৭ সালে সংঘটিত হয় সিপাহী বিদ্রোহ। ভারতবর্ষের অন্যান্য স্থানের মতো সিপাহী বিদ্রোহের উত্তাপ পাবনার মাটিতে এসে  পড়েছিল।  ঢাকার  বিদ্রোহী  দলের  উত্তর  দিকে  যাত্রাকালে  সিরাজগঞ্জ  বন্দর  লুণ্ঠিত  হওয়ার  আশঙ্কা  দেখা  দেয়। তৎকালীন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মি. টি ই রেভেন্স পাবনার নীলকর ও অন্যান্য ইউরোপীয়দেরকে ডেকে একদল অশ্বারোহী সৈন্য গঠন করে সিরাজগঞ্জের দিকে অগ্রসর হন। এতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অন্যান্য সাহায্যকারীরা গভর্নমেন্টের ধন্যবাদ লাভ করেন। এছাড়া পাবনায় বসবাসকারী ইউরোপীয় নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে ১৮৫৭ সালের ২৬ মার্চ রেভেন্স সাহেব এক পত্র জারি করেন। সিপাহী বিদ্রোহের সময় তাঁতিবন্দের জমিদার বিজয়গোবিন্দ ইংরেজদের সহায়তা করেছিলেন। ইংরেজ সরকার খুশি হয়ে তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছিল। জানা যায়, তাঁতিবন্দের জমিদার বিজয়গোবিন্দ চৌধুরী ঢাকা  থেকে  পাবনা  পর্যন্ত  সিপাহীদের  গতিরোধ  করার  জন্য  নিজ  ব্যয়ে  রক্ষক  নিযুক্ত  করতে  চেয়েছিলেন।  অন্যদিকে দুলাইয়ের জমিদার আজিম চৌধুরী সিপাহীদের পক্ষে অবস্থান নেন। এ জেলার আটঘরিয়ায় সিপাহীদের ধরে এনে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল বলে জনশ্রুতি আছে।

নীলবিদ্রোহ : পাবনা  জেলায়  এক  সময়  ৫টি  প্রধান  কুঠি  বা  কন্সার্ন-এর  অধীনে  বিভিন্ন  গ্রামে  নীলচাষ  হতো।  নীলকররা  কৃষকদের নীলচাষের  জন্য  অগ্রিম  দাদন  দিতো,  তা  যথাযথভাবে  পরিশোধ  করতে  না  পারলে  কৃষকদের  ওপর  নির্যাতন  চালাতো। নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে ১৮৫৯-৬০ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গদেশের বিভিন্ন স্থানে নীলবিদ্রোহ সংঘটিত হয়। এ বিদ্রোহ পাবনা জেলার নানাস্থানে ছড়িয়ে পড়ে। এখানকার কৃষকরা সংগঠিত হয়ে নীলচাষে অস্বীকার করে এবং নীলবিদ্রোহে অংশ নেয়। পাবনার  কৃষকেরা  নীলকরদের  বিরুদ্ধে  বিদ্রোহ  করলে  তাঁদের  দমন  করার  জন্য  দ্বিতীয়  বেঙ্গল  পুলিশ  ব্যাটালিয়ানের হাবিলদার সেভো খানকে পাবনায় পাঠানো হয়। ১৮৬০ সালে লেখা তাঁর এক চিঠিতে পাবনা জেলার নীল বিদ্রোহীদের সঙ্গে তাঁর দলের এক খ-যুদ্ধের বিবরণ পাওয়া যায়।

প্রজাবিদ্রোহ বা পলোবিদ্রোহ : ব্রিটিশ ভারতের আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসে পাবনার প্রজাবিদ্রোহ এক আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা। এ বিদ্রোহ সংঘটিত হয় ১৮৭২-৭৩ সালে। শাহজাদপুরে শুরু হওয়া এই আন্দোলন সারা পাবনা জেলা এমনকি জেলার বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলেই ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে ‘বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন’ চালু হয়, যা ‘প্রজাদের সনদ’ নামে পরিচিত। নানা অজুহাত জামিদার ও তাদের কর্মচারীরা প্রজাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতো। কখনও ইচ্ছায়, কখনও অনিচ্ছায় প্রজারা এগুলো দিতে বাধ্য হতো। এতে  তাঁদের  মধ্যে ক্ষোভ  জন্মে। এমতাবস্থায়  কয়েকজন জমিদার  সিরাজগঞ্জ  মহকুমার অধীনে  নাটোরের জমিদারদের ইউসুফশাহী পরগনা নিলামে ক্রয় করে। জমিদারি ক্রয়ের পর নতুন জমিদাররা খাজনা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা চালায়, এতে  প্রজাদের ক্ষোভ আরও বাড়ে। এমন পরিস্থিতিতে শাহজাদপুরের প্রজারা খাজনা আদায়ে বাধা দেয় এবং নিজেদের বিদ্রোহী বলে ঘোষণা করে। ১৮৭২ সালের মে মাসে প্রজারা সংগঠিত হয় এবং জুন মাসে তারা পুরো পরগনায় ছড়িয়ে পড়ে। শাহজাদপুর থানার দৌলতপুরের ঈশানচন্দ্র রায় বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগ দিয়ে তাঁদের নেতা হন।

পাবনা জেলার এই বিদ্রোহ ‘পলোবিদ্রোহ’ নামেও পরিচিত। প্রজারা মাছ ধরার ভান করে কাঁধে একটি লাঠি এবং লাঠির মাথায় পলো বেঁধে মহিষের শিং বাজিয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে চলতো। এঁরা ‘পালোওয়াল বা পলোওয়ালা বা পলোনাথ কোম্পানি’ নামে পরিচিত ছিল। লোককবির বর্ণনা : ‘লাঠি হাতে পলো কাঁধে চলল সারি সারি/সকলের আগে যায়ে লুটলো বিশির কাচারি।’  প্রজাবিদ্রোহের  ফলে  যখন  প্রবল  অরাজকতা  সৃষ্টি  হয়,  তখন  জেলা  ম্যাজিস্ট্রেট  মি.  ভি.  টেলর  পুলিশ  নিয়ে সিরাজগঞ্জ  উপস্থিত  হন  এবং  বিভিন্ন  স্থানে  টহল  দিতে  থাকেন।  যেসব  এলাকায়  বেশি  অরাজকতা  চলে  সেসব  স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ, এমনকি সামরিক পুলিশ নিযুক্ত করা হয়। বহু স্থানে স্পেশাল পুলিশ নিযুক্ত করা হয় এবং ঘাঁটি স্থাপন করা হয়। বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশে গোয়ালন্দ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়। বাংলার ছোটলাটের আদেশে সামরিক  পুলিশ  বাহিনীও  পাঠানো  হয়।  এক পর্যায়ে প্রজাবিদ্রোহের  নেতা  ঈশানচন্দ্র  রায়  এবং  অন্যান্য  দলনেতা  গ্রেফতার  হন। ঈশানচন্দ্রকে মুক্তি দেওয়া হলেও ৩০২ জন আসামীর মধ্যে ১৪৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দেয়া হয়। এরপর প্রজারা ধীরে ধীরে শান্ত হয়। সরকার ১৮৮৫ সালে ‘বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন’ প্রবর্তন করে জমির ওপর প্রজাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।

সন্ন্যাসী বিদ্রোহ : ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পর বঙ্গদেশে সন্ন্যাসী বিদ্রোহ সংঘটিত  হয়। এ বিদ্রোহ  শুরু  হয়  ১৭৬৩ খ্রিস্টাব্দে এবং  স্থায়ী হয় ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত। পাবনাতেও এর ঢেউ লাগে। পাবনা জেলার কোন্ স্থানে সন্ন্যাসীরা আস্তানা গেড়েছিল তা সুনিশ্চিত করে বলা কঠিন, তবে বেড়া ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে তাঁদের প্রভাব ছিল বলে জানা যায়। বেড়ার পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন গ্রামে সন্ন্যাসীদের বসবাসের নিদর্শন রয়েছে। সন্ন্যাসী বিদ্রোহের স্মৃতি বহন করছে বেড়া উপজেলার সন্ন্যাসীবাধা, শ্রীনিবাসদিয়া, সিংহাসন, সাফলা, শিবপুর প্রভৃতি গ্রাম।

সলঙ্গা বিদ্রোহ : পাবনা জেলার আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসে সলঙ্গা বিদ্রোহ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ১৯২২ সালের ১৮ জানুয়ারি শুক্রবার মওলানা আবদুুর রশীদ তর্কবাগীশের নেতৃত্বে এই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছিল সলঙ্গার মাটিতে। আন্দোলন ঠেকাতে পাবনার তৎকালীন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মি. আর. এন. দাস ও তৎকালীন সিরাজগঞ্জ মহকুমা প্রশাসক মি. এন. কে. সিনহার নেতৃত্বে  অভিযান  চালানো  হয়েছিল।  গ্রেফতার  করা  হয়  মাওলানা  আবদুুর  রশীদ  তর্কবাগীশকে।  এতে  বিদ্রোহের  আগুন আরও দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। জনতা ঝাঁপিয়ে পড়ে ইংরেজের পদলেহী বাহিনীর ওপর। সলঙ্গা বিদ্রোহে আত্মাহুতি দিয়েছিলেন অনেক মানুষ। শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ রাজকর্মচারীরা জনতার আক্রোশের মুখে মওলানা তর্কবাগীশকে মুক্তি দিতে বাধ্য  হয়।  সলঙ্গা-বিদ্রোহে  আত্মদানকারীদের  লাশ  রহমতগঞ্জ  গণকবরে  সমাহিত  করা  হয়।  ভারতবর্ষের  ইতিহাসে পাবনাবাসীর এ বিদ্রোহ ইতিহাসের উজ্জ্বল অধ্যায়।

স্বদেশি আন্দোলন : ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের পটভূমিতে স্বদেশি আন্দোলন সৃষ্টি হয়। এ-আন্দোলনের একটি কৌশল ছিল বিলেতি দ্রব্য বর্জন ও দেশীয় পণ্যের ব্যবহার করে ইংরেজদের চাপে রাখা। পাবনা জেলার বিভিন্ন স্থানে স্বদেশি আন্দোলনের হাওয়া লাগে।  স্থানে  স্থানে  সংঘাত-সংঘর্ষও  হয়।  স্বদেশি  আন্দোলনের  উত্তাল  পরিবেশে  ১৯০৮  সালে  পাবনায়  অনুষ্ঠিত  হয় কংগ্রেসের প্রাদেশিক কনফারেন্স। এতে সভাপতিত্ব করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এই কনফারেন্সে স্বদেশি আন্দোলনের বিভিন্ন বিষয়  আলোচনায়  স্থান  পায়।  ১৯১৩  সালে  স্বদেশি  আন্দোলনের  অন্যতম  নেতা  সুরেন্দ্রনাথ  বন্দ্যোপাধ্যায়  সিরাজগঞ্জে আসেন। তখন হিন্দু-মুসলমান পক্ষ-বিপক্ষের বোধটি বড় হয়ে দেখা দেয়। বাঙালি লেখক ও কবি সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী প্রতিপক্ষের হাতে প্রহৃত হন।  শুধু তাই নয়, স্বদেশি আন্দোলনে অংশগ্রহণ এবং  ‘অনলপ্রবাহ’ গ্রন্থ রচনার জন্য

তাঁকে দু-বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়। স্বদেশি আন্দোলন পাবনা জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। সাঁথিয়ার সোনাতলা  গ্রামের  হরিদাস  চক্রবর্তী  স্বদেশি  আন্দোলনের  কর্মী  ছিলেন।  তিনি  স্থানীয়  জনসাধারণকে  স্বদেশি  আন্দোলন সম্পর্কে সচেতন করেন। উল্লাপাড়া ও পার্শ্ববর্তী গ্রামের অনেক মানুষ স্বদেশি আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন।

খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন : তুরস্কের খেলাফত রক্ষার জন্য ভারতবর্ষে যে আন্দোলন হয় পাবনা জেলায় তার প্রবল প্রকাশ ঘটে। ইসমাইল হোসেন  সিরাজী,  এম  এ  গফুর,  এম  সেরাজুল  হক,  আসাদল্লাহ  সিরাজী,  দেওয়ান  লুৎফর  রহমান  প্রমুখ  নেতা  পাবনায় খেলাফত আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। তুরস্ক সরকারকে সাহায্য করার জন্য ‘অ্যাঙ্গরা ফান্ড’ গঠন করা হয়েছিল। পাবনার খেলাফত আন্দোলনকারী নেতারা ভারতের খেলাফত আন্দোলনের প্রধান নেতা মওলানা মোহাম্মদ আলী ও শওকত আলীর কাছে  দশ হাজার যুবকের সমন্বয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী পাঠানোর প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন। খেলাফত  আন্দোলনের মতো অসহযোগ আন্দোলনেও পাবনার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯১৯ সালে নতুন সংশোধিত ব্যবস্থাপক আইন প্রবর্তনের ফলে এ দেশে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। এ জেলার জনসাধারণ খদ্দর ব্যবহার, চরকায় সুতা কাটে, স্বদেশি  দ্রব্যের  ব্যবহার করে  এবং  মাদকদ্রব্য  ব্যবহার  বন্ধসহ  নানাভাবে  অসহযোগ  আন্দোলনকে  জোরদার  করে।  সাঁথিয়া, চাটমোহর, ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়া, বেড়া, সুজানগর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ প্রভৃতি স্থানে স্বেচ্ছাসেবক দল পিকেটিং ও বক্তৃতা করে অসহযোগ আন্দোলনের পক্ষে জনমত গড়ে তোলে।

পাকিস্তান আন্দোলন : পাকিস্তান আন্দোলনে পাবনার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সম্পৃক্ত হয়। এ আন্দোলনের ভিত্তিভূমি ছিল ১৯০৬ সালের মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা। মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ মহকুমার চরবেলতৈল গ্রামের নজিবর রহমান সাহিত্যরতœ।  সে সময়  আফজাল  খাঁ  মোক্তার,  খান  সাহেব  ওসমান  গণি  মোক্তার,  ইজ্জত  উল্লাহ  পেশকার  সিরাজগঞ্জে মুসলিম লীগের প্রথম সারির নেতা ছিলেন। তাঁরা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিশেষ অবদান রাখেন। পাবনা শহরে এ এম এ হামিদ, ডা. তোফাজ্জল হোসেন, ডা. মোফাজ্জল হোসেন, দেওয়ান লুৎফর রহমান মুসলিম লীগকে সুসংগঠিত করেন এবং পাকিস্তান আন্দোলন জোরদার করেন। এছাড়া পাকিস্তান আন্দোলনকে বেগবান করতে ও মুসলিম লীগকে সংগঠিত করার  ক্ষেত্রে  বিশেষ  অবদান  রাখেন  আবদুল  মজিদ  উকিল,  রজব  আলী  উকিল,  আবদুুল্লাহ  আল  মাহমুদ  উকিল,  সৈয়দ আকবর  আলী  উকিল,  আবদুর  রশিদ  মাহমুদ  উকিল,  কাজী  মতিয়ার  রহমান,  আবুল  কাশেম  মোক্তার,  গোলাম  আজম মোক্তার, সেকেন্দার আলী মোক্তার, তোরাব আলী উকিল, বজলুর রহমান আলমাজী প্রমুখ ব্যক্তি।

১৯৩৭ সালে সিরাজগঞ্জে জনসভায় এসেছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। জনস্রত দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছিলেন। ১৯৪০ সালের  ২২  ও  ২৩  মার্চ  লাহোরে  অনুষ্ঠিত  মুসলিম  লীগের  সম্মেলনে  শেরেবাংলা  এ  কে  ফজলুল  হকের  সঙ্গে  যোগদান করেছিলেন  মওলানা  আবদুল  হামিদ  খান  ভাসানী। লাহোর  প্রস্তাবের  পর  পাবনার  মানুষের  মুখে  মুখে  ধ্বনিত  হয়েছে ‘লড়কে লেংগে পাকিস্তান’। ১৯৪৬ সালের নির্বাচনের পূর্বে নিখিল বঙ্গ মুসলিম লীগ পুনর্গঠিত হলে সিরাজগঞ্জের আবদুুল্লাহ আল  মাহমুদ  যুগ্ম-সম্পাদক  নিযুক্ত  হন।  ১৯৪৬  সালের  নির্বাচনে  পাবনার  মানুষ  মুসলিম  লীগকে  জয়যুক্ত  করে  এবং পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে।

[তথ্য সূত্র : পোর্টাল.গভ.বিডি]

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।