
দেবাশীষ নাগ দীপ্ত
বর্ষায় চলনবিল পানিতে ভরে উঠলেই গোলাপী পদ্ম, সাদা শাপলা আর নানা রকম পানির ফুলে ঢেকে যেতো বিশালাকার জলাভূমি। বিগত বছরগুলোতে জলজ ফুলের সমারোহে চোখ জুড়ালেও চলতি মৌসুমে একেবারেই ভিন্ন চিত্র। পর্যাপ্ত পানি না থাকায় এবং ফুল কম ফোটার কারণে চলনবিল দর্শনে এসে হতাশ হয়ে ফিরছেন পর্যটকরা।
পাবনার চাটমোহর উপজেলার ফৈলজানা ও পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম জুড়ে বিস্তৃত ‘ডিকশির বিল’। পর্যটকদের কাছে এটি ‘পদ্ম বিল’ নামে বেশি পরিচিত। কিন্তু এবার সেখানে অন্যরকম দৃশ্য। পানির প্রবাহ আশানুরূপ না থাকায় বিলে স্বাভাবিক পানি জমেনি। ফলে ফুটে থাকা কয়েক গুচ্ছ ফুল আর ভেসে থাকা পাতা ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ছে না। অবশ্য ফুল কম থাকলেও সাপ্তাহিক ছুটির দিনসহ অন্যান্য দিনে হাজারো পর্যটকের আগমন ঘটছে।
পাবনা শহরের ব্যবসায়ী সৈকত আসাদ জানান, প্রতি বছর সন্তানদের নিয়ে নৌকায় ঘুরে পদ্ম-শাপলা দেখার অভিজ্ঞতা থাকলেও এবারে দুইবার গিয়েও তার কন্যা একটি ফুলও ছুঁয়ে দেখতে পারেনি।
একই অভিজ্ঞতার কথা জানান কাচারী পাড়ার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিলের গভীর অংশে কিছু ফুল থাকলেও এবার পুরো বিল জুড়ে শুধুই পাতা ভেসে আছে।
দিকশির বিলের স্থানীয় মাঝি মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে বিলে পানির প্রবাহ খুব কম। তাই ফুলও ফুটেছে অনেক কম। শুক্র ও শনিবার কয়েক হাজার মানুষ এলেও তারা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

কেবল দিকশির বিলই নয়, ‘বিলকুড়ালিয়া’ ‘কাটা বিল’সহ চলনবিলের অন্যান্য জলাশয়ের অবস্থাও একই। পদ্ম আর শাপলার স্থান এখন দখল করে নিয়েছে কচুরিপানা। পরিবেশবাদী ও স্থানীয়রা জানান, জলবায়ূ পরিবর্তন ও মানবসৃষ্ট নানা কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, খরা এবং নদ-নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে জলজ উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে।
‘চলনবিল রক্ষা আন্দোলন’-এর প্রতিষ্ঠাতা এস এম মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর থাকা চলনবিল এখন টিকে থাকার লড়াই করছে। অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন- পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। শাপলা-পদ্মের জায়গায় এখন কচুরিপানা জেঁকে বসেছে।’ এছাড়া কৃষিজমিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক- বিলের পানি দূষিত করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এমন পরিস্থিতিতে চলনবিলের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় পরিবেশবান্ধব পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিলপ্রেমীরা।