সম্প্রীতি প্রতিবেদক
এডিস মশার জন্ম ও দ্রুত এর বিস্তৃতির কারণে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও বিপদজনক দিকে চলে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে বলা হয়েছে, গত আগস্ট থেকে আগামী অক্টোবর মাসকে ডেঙ্গুর ‘পিক সিজন’ বলা হয়। ফলে এখন ডেঙ্গু আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা যেমন ব্যাপকভাবে বাড়ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুও। এরইমধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেড়শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চলতি সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু পরিস্থিতির জন্য সবচেয়ে খারাপ সময়। এই এক মাসেই ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে পারে। এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার গণমাধ্যমকে জানান, আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই মৃত্যু সংখ্যাও বাড়বে। শুধু তাই নয়, অক্টোবরেও আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কাছাকাছি থাকবে।
এদিকে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী জানিয়েছেন, ডেঙ্গু নিয়ে আমরা উদ্বেগজনক অবস্থায় আছি। দিনদিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। অন্যদিকে, হামের কারণে আমাদের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো এমনিতেই অতিরিক্ত চাপের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে ডেঙ্গু নতুন করে বাড়তি চাপ তৈরি করছে। তিনি উল্লেখ করেন, বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার কারণে এডিস মশার প্রজননের উপযোগী স্থান বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিতে ঘাটতি ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ার অন্যতম কারণ। বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা বেড়ে যায়। বাংলাদেশে আমরা আমাদের পরিবেশও সেভাবে ব্যবস্থাপনা করতে পারি না। তবে বর্ষাকে ঠেকানো সম্ভব না হলেও চাইলে মশার বিস্তারকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
তাঁর মতে, ভেক্টর (রোগের বাহক) নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে ডেঙ্গুকে নিয়ন্ত্রণ করাও সম্ভব নয়। কারণ এটি মানুষ থেকে মানুষে সরাসরি ছড়ায় না, ছড়ায় মশার মাধ্যমে। ডেঙ্গু সংক্রমণের কারণ এবং এডিসের প্রজননস্থল সব এলাকায় একরকম নয়। তাই এলাকার পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। স্থানীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো মশা নিয়ন্ত্রণ এবং লার্ভা নির্মূল কার্যক্রম জোরদার করতে পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।